তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন : পিআইডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাই আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথ সহজ নয়, তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফল হওয়া সম্ভব। সরকার তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: মামুনুর রশীদ ভূঁঞা সূচনা বক্তব্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম , প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের এই সেশন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্বোধন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, পথচলা সহজ নয়; সফলতার জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করতে হবে। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সফলতা অর্জন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই নতুন উদ্যোক্তাদেরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃজনশীলতা তাকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেখে তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সব উদ্যোক্তার সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধ, উদ্ভাবননির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ছিল তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী চিন্তা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি উন্মুক্ত সংলাপের অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের একটি সমন্বিত প্রয়াসকে প্রতিফলিত করেছে।

তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তরুণদের জন্য মেন্টরিং, প্রশিক্ষণ, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন, ইনকিউবেশন এবং বিনিয়োগ সংযোগের যে সমন্বিত রোডম্যাপ গড়ে তোলা হয়েছে, তা উদ্ভাবনী ধারণাকে সফল উদ্যোগে রূপান্তরের পথকে আরো সহজ করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি তারুণ্যদীপ্ত বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রযুক্তিনির্ভর ও তরুণবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের যে দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, আজকের আয়োজন তারই একটি ক্ষুদ্র প্রতিফলন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথিদের সাথে নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রদর্শনী স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন। এই প্রদর্শনী আজ ১৫ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।