আল-জাজিরা
ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আর্থিক বোঝা চাপানোর নতুন সরকারি পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিলের অধীনে আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের বসবাসের খরচ বাবদ ১০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড বা ১৩ হাজার ৩৬০ ডলার সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি ভাষ্যমতে, এটি একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, এই নীতি তাদের অস্তিত্বকে আরো সঙ্কটাপন্ন করে তুলবে।
নাইজেরিয়া থেকে আসা ৩৮ বছর বয়সী ফ্রাঙ্ক- নিরাপত্তার স্বার্থে যার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে- বর্তমানে লন্ডনের রাস্তায় দিনাতিপাত করছেন। নাইজেরিয়ায় অপহরণ ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই ব্যক্তি বর্তমানে একটি পায়ে চোট নিয়েও পার্ট-টাইম কাজ করছেন। ফ্রাঙ্ক জানান, ১০ হাজার পাউন্ডের এই ঋণ পরিশোধের চিন্তা তার মতো আশ্রয়প্রার্থীদের এক প্রকার বন্দিদশার দিকে ঠেলে দেবে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অসম্ভব করে তুলবে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর পর্যাপ্ত আর্থিক সঙ্গতি থাকবে, তাদের ক্ষেত্রে এই চার্জ প্রযোজ্য হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দাবি করেছেন, আশ্রয়সহায়তা পাওয়া যেমন একটি অধিকার, তেমনি এর জন্য অর্থ ফেরত দেয়া এক ধরনের দায়িত্ব। তবে সমালোচকদের মতে, সরকারি এই পরিসংখ্যান আশ্রয়প্রার্থীদের বাস্তব আর্থিক অবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ অনেকেই সপ্তাহে মাত্র ৫০ পাউন্ড বা ৬৭ ডলারের ভাতা নিয়ে জীবনযাপন করেন।
মাইগ্র্যান্টস রাইটস নেটওয়ার্কের পলিসি প্রধান কনসেপ্টা কাসার এই সিদ্ধান্তকে ‘শাস্তিমূলক ও লোকদেখানো নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, যারা ইতোমধ্যেই জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন, তাদের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো অমানবিক। বরং সরকারি সম্পদের ঘাটতি মেটাতে ধনকুবেরদের ওপর করারোপের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অধিকারকর্মীদের মতে, এই নীতি অভিবাসীদের মানুষ হিসেবে নয়, বরং কেবল একটি আর্থিক দায় হিসেবে দেখার বহিঃপ্রকাশ।



