মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার হাসাকা থেকে ইরাকে আইএসআইএলের (আইএসআইএস) বন্দী স্থানান্তরের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সাথে কথা বলেছেন। তিনি বাগদাদকে ইরান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, গত রোববার রুবিও ও আল-সুদানি ফোনে কথা বলেন। এ সময় রুবিও ইরাক সরকারের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন, যারা দ্রুত আইএসআইএস বন্দীদের স্থানান্তর ও আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
বুধবার মার্কিন সেনারা সিরিয়ার হাসাকা প্রদেশের একটি কারাগার থেকে প্রথম ১৫০ বন্দীকে ইরাকে স্থানান্তর করে। সিরীয় সেনারা এসডিএফের কাছ থেকে আরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। মার্কিন সেনারা প্রায় সাত হাজার বন্দীকে ইরাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। এটি সিরিয়ায় আইএসআইএল মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে। দীর্ঘ এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এসডিএফকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে ২০২৪ সালের শেষে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন সিরীয় সরকারের সাথে কাজ করছে।
ইরাক সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। রুবিওর ফোনালাপ এমন সময়ে হলো যখন ইরাকে নুরি আল-মালিকির এক দশকের বেশি সময় পর আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে পরে তার সাম্প্রদায়িক নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয় এবং ইরাকে আইএসআইএল উত্থান ঘটে। রুবিও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইরাক মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের নিয়ন্ত্রিত সরকার ইরাকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না, আঞ্চলিক সঙ্ঘাত থেকে দূরে রাখতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরাকের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে পারবে না।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে, যা দেশটিকে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় ফেলে দেয় এবং আল-কায়েদা ও পরে আইএসআইএল উত্থান ঘটায়। ২০০৯ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ে, যদিও কিছু সেনা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে থেকে যায়। ২০১১ সালে অবশিষ্ট মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনারা ইরাক ছাড়ে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে। এ যুদ্ধে অন্তত দুই লাখ ৭৫ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ২০১৪ সালে আবার প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা আইএসআইএল মোকাবেলায় ইরাকে মোতায়েন হয়। তবে ইরাক সরকার জানিয়েছে, এ মাসে তারা প্রত্যাহার করে নিবে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যারা জনপ্রিয় মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অধীনে কাজ করে, ইরাকে প্রভাব বিস্তার করছে। পিএমএফ আইএসআইএল মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্র চায় এসব গোষ্ঠী ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরে যুদ্ধজাহাজের একটি বহর পাঠানো হচ্ছে। গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। এর জবাবে তেহরান পাল্টা প্রতিশ্রুতি দেয়। জুন মাসে ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে নজরে রাখছি। ইরানের দিকে বড় বাহিনী যাচ্ছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আগের চেয়ে আরো শক্তভাবে দেবে এবং এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে আগ্রাসী অনুতপ্ত হয়। তিনি বলেন, আমরা হাইব্রিড যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছি এবং হচ্ছি। জুনের আগ্রাসনের পর গত কয়েক মাসে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হুমকির সম্মুখীন হয়েছি। তিনি আরো বলেন, অঞ্চলের দেশগুলো জানে যেকোনো অস্থিতিশীলতা শুধু ইরানকে লক্ষ্য করে নয়। তাই আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্বেগ রয়েছে।



