বিশেষ সংবাদদাতা
এই পোস্টাল ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। কোনো একটি দলকে বিশেষভাবে সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এটাকে পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি বলে জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডির কপি ও বিকাশ নম্বর, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ক্রিমিনাল অফেন্স। এ বিষয়ে আমরা ইতঃপূর্বে আচরণবিধি ভঙ্গের আপত্তি জানিয়েছি। এখন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সিইসিকে বলেছি।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে গতকাল বিকেলে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব এই মন্তব্যগুলো করেন। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি ও পক্ষপাত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এসে তার সাথে দেখা করে আমাদের নির্বাচন সংক্রান্ত অনেক বিষয় ছিল সেই বিষয়গুলো আমরা তাদের সামনে তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করছে। তিনি বলেন, বিদেশের পোস্টাল ব্যালটের যে সমস্যা ছিল, এখনো কিন্তু সেসব পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিশেষ করে বিদেশে যারা নিবন্ধিত ভোটার তাদেরকে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এবং ব্যালট পেপারটা যেভাবে মুদ্রণ করা হয়েছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের অভিযোগ। অভিযোগগুলো আমরা সিইসিকে দিয়েছি। আমরা মনে করি এই ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেশের পোস্টাল ব্যালটের ব্যাপারে অর্থাৎ যারা বিভিন্ন দায়িত্বে থাকবে নির্বাচনের দিন তারা যে পোস্ট ভোট দেবেন আমরা অনুরোধ করেছি। আমরা চেয়েছি যে প্রতীক বিতরণের পরেই যেন দেয়া হয়। অর্থাৎ সঠিকভাবে একটা পোস্টাল ব্যালটে আমরা যেভাবে ভোট দেই সেভাবে যেন সেই পোস্টাল ব্যালটও ব্যবস্থা করা হয়।
জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডির কপি, বিকাশ নম্বর, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ক্রিমিনাল অফেন্স। এটিকে আমরা দেখার জন্য ইসিকে বলেছি।
অভিযোগ অন্য দলেরা আচরণবিধি ভঙ্গ করছে
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির আসনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব রয়েছে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বিশ্বাসী আমরা। এজন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
একটি দল ব্যাপক হারে ঢাকায় ভোটার এনেছে
আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, ঢাকা মহানগরী এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করেছে। তারা ব্যাপক হারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন পূর্বক ঢাকা মহানগর এলাকায় ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছে। মোট কত সংখ্যক ভোটার কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরের কোন কোন সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় কোন কোন তারিখে এবং কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে তা বিএনপিকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে আমাদের সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।
ইসির ও মাঠ প্রশাসন একটি দলের পক্ষে
বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কিছু কিছু ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছে। আমরা এসবের অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়গুলো আমরা তাদের গোচরগত করেছি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে তদন্ত গ্রহণপূর্বক তাদের প্রত্যাহার করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তাদের অনুরোধ করেছি। এই ছিল আমাদের আজকে তাদের সাথে কথা বলা।



