শিক্ষা খাতের ৪৩টি ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
জাতীয় সংসদে বুধবার বিলের পক্ষে হাত উঁচিয়ে সম্মতি জানান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারি জোটের সদস্যরা : পিআইডি
জাতীয় সংসদে বুধবার বিলের পক্ষে হাত উঁচিয়ে সম্মতি জানান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারি জোটের সদস্যরা : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা খাতে বরাদ্ধ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে একথা জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্বরোপ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। এটি সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড ডে মিল পরিকল্পনা রয়েছে।

মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘণ্টা বিলম্বে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। ৩০ মিনিট চলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে এক হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকিনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের দুই হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও আট হাজার ২৩২টি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিকায়ন স্মাট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আইসিটি বিভাগের আওতাধীন কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, সাইভার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলমেন্ট এন্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লুটার, পাইথন প্রোগ্রামিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম প্রশ্নটি সংসদ সদস্য সেলিম রেজার। তার প্রশ্নটি ছিল, প্রধানমন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি, আপনার সরকারের আমলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদান, নতুন প্রজন্মকে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে সমমানের উচ্চ শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তুলবার লক্ষ্যে আপনার সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা।

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই মূল একক’ : ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুব উদ্দিনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা এবং তিনটি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আশা করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

‘পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে’ : ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে পর্যটন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার ঘটানো, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ ও ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ ও গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন। দেশের আর্থ-সামজিক অবস্থা ও দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী ইশতেহারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। সব অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতি উপজেলায় একটি মহিলা কলেজ সরকারি করার উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্ন ছিল, নওগাঁ-৪ আসনের মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের সব উপজেলা সদরের একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনে বাস্তবায়ন করা হবে?

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিমানবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা, জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখা ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।