কচুরিপানায় ৪ মাস বন্ধ নৌ চলাচল বাঁশের সাঁকোয় পারাপার

Printed Edition
ধনাগোদায় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন এলাকাবাসী : নয়া দিগন্ত
ধনাগোদায় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন এলাকাবাসী : নয়া দিগন্ত

সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কালিরবাজার এলাকায় ধনাগোদা নদী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ কচুরিপানার আগ্রাসন, অবৈধ জাগ স্থাপন ও দখলদারিত্বের কারণে গত চার মাস ধরে নদীতে নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে নদীর ওপর অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, কালিরবাজার নৌকা ঘাটসংলগ্ন ধনাগোদা নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। কোথাও খোলা পানির চিহ্ন নেই। একসময় যেখানে লঞ্চ ও নৌযান চলাচল করত, সেখানে এখন মানুষ হাঁটছে কচুরিপানার ওপর কিংবা বাঁশের সাঁকো ধরে পার হচ্ছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শ্রী রায়েরচর ব্রিজ থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানার স্তূপ জমে রয়েছে। এতে নদীপথের অন্তত আটটি লঞ্চঘাট অচল হয়ে পড়েছে। এতে মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া ও দাউদকান্দি উপজেলার সাথে নৌ যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এই নদীপথ ব্যবহার করে ধনাগোদা তালতলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করত। নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পাড়ের স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টি বা কুয়াশার সময় সাঁকো দিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের এ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে জাগ বসানো হচ্ছে। এতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং কচুরিপানা সরে যেতে না পেরে নদীতে জমাট বেঁধে পড়ছে। পাশাপাশি দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও নিয়মিত খননের অভাব নদীটিকে মৃতপ্রায় অবস্থায় নিয়ে গেছে।

একসময় ধনাগোদা নদী ছিল এই এলাকার ব্যবসাবাণিজ্য ও নৌ যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। এই পথেই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন হতো। বর্তমানে সেই নদী পরিণত হয়েছে কচুরিপানায় ভরা স্থবির জলাধারে। মতলব উত্তর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, অবৈধ জাগ, কচুরিপানার আগ্রাসন ও খননের অভাবে ধনাগোদা নদী আজ নৌপথ নয়, দুর্ভোগের নাম। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধ জাগ উচ্ছেদ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।