পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-পর্বসংখ্যা-৭৮

দ্বিতীয় অধ্যায় : ব্রিটিশ শাসন

Printed Edition
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-পর্বসংখ্যা-৭৮
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-পর্বসংখ্যা-৭৮

পিয়ারা আক্তার

সাবেক শিক্ষক, ফকিরেরপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রমনা, ঢাকা

প্রিয় পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ‘দ্বিতীয় অধ্যায় : ব্রিটিশ শাসন’ থেকে আরো ৪টি যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।

প্রশ্ন : ইংরেজ শাসনবিরোধী পাঁচটি আন্দোলনের নাম উল্লেখ করো।

উত্তর : ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনের নামগুলো হলো-

র. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, রর. তিতুমীরের বিদ্রোহ

ররর. ফরায়েজি আন্দোলন, রা. সাঁওতাল বিদ্রোহ

া. সিপাহি বিদ্রোহ।

প্রশ্ন : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিভাবে বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠা করে?

উত্তর : ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। আর এ যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি শুরু হয়। তবে সাথে সাথেই তারা নিজেদের হাতে শাসনভার তুলে নেয়নি। তাদের কথা শুনবে, এমন দেশীয় লোকদের দিয়ে শাসনকাজ শুরু করে। তারা প্রথমে মীর জাফর ও পরে মীর কাশিমকে সিংহাসনে বসায়। মীর কাশিম ছিলেন কিছুটা স্বাধীনচেতা। এ কারণে ইংরেজদের সাথে দুইবার যুদ্ধ হয়। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। এরপর থেকেই ইংরেজরা পুরোপুরি ক্ষমতা দখল করে। ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ১০০ বছর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশে শাসন চালায়। এই শাসনামল ইতিহাসে ‘কোম্পানির শাসনামল’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন : বাংলায় ইংরেজ শাসনের এরূপ আরো পাঁচটি নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করো।

উত্তর : বাংলায় ইংরেজ শাসনের নেতিবাচক প্রভাব :

র. প্রয় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনকালে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়।

রর. বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।

ররর. বাংলার শিল্প ও বাণিজ্য নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রা. অসংখ্য কারিগর বেকার হয়ে যায়।

া. কোম্পানির শাসনের সময়ে ১৭৭০ সালে বাংলায় ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়।

প্রশ্ন : ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম বলা হয় কেন?

উত্তর : সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়। ইংরেজ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ হয়। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহ প্রথমে বাংলায় শুরু হলেও ইংরেজ অধিকৃত ভারতের অন্যান্য এলাকার সিপাহিদের মধ্যেও এই বিদ্রোহ শুরু হয়। আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলায় একাধিক ইংরেজবিরোধী আন্দোলন হলেও সিপাহি বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম। এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করা। এ জন্য ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে প্রথম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।