সিনেটের অনুমোদন পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানীত এবং এর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি’ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সিনেট শুনানির পর অনুমোদন পাওয়ায় এখন তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন ঢাকা মিশনে তিনি পিটার হাসের উত্তরসূরি হবেন। পিটার হাস ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে তিনি অবসরে যান। বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের অগাস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিরোধ মিশনের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে পরামর্শ দিতেন। দুই দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ওয়াশিংটন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্কিন রাজনৈতিক-সামরিক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দফতরের উপপরিচালক, উত্তর কোরিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপকমিটিতে পিয়ারসন ফেলো হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ক্রিস্টেনসেন ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ‘ডিস্টিংগুইশড’ গ্র্যাজুয়েট ক্রিস্টেনসেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স করেছেন। এ ছাড়া টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মার্কিন এই কূটনীতিক স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন। এ ছাড়া তিনি ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও শিখেছেন।