খামেনিসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিতের ঘোষণা ইরানের

Printed Edition
ইসমাইল বাঘাই
ইসমাইল বাঘাই

আলজাজিরা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ নিহত প্রত্যেক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি বলে ঘোষণা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তেহরানে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বাকাই বলেন, এটি সরকারের স্পষ্ট দায়িত্ব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ এবং নথিভুক্ত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ইরান। লক্ষ্য হলো প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সাথে যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে মাসকাটের সাথে এ নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না বলে জানান বাকাই।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা

এ দিকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চেষ্টার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর সরবরাহ লাইনগুলোকে নিশানা করেছে। রোববার রাতে একের পর এক পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওমানের ডুকম বন্দরের একটি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান বলছে- এই স্থাপনা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপগুলোকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হতো, যা ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের বোমা হামলার অভিযানে মূল ভূমিকা পালন করে আসছিল। ইরানি সামরিক বাহিনী কাতার ও জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হানার দাবি করেছে।

গত মাসে এক অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে তেহরানের এই সর্বশেষ হামলাগুলো ওই অঞ্চলের আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চালানো সবচেয়ে ব্যাপক হামলা এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজধানীগুলো থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরান নিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দফার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এগুলো গত কয়েক মাসের সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ করে দিয়েছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন শাসনব্যবস্থা হরমুজ প্রণালীতে আবারো নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে বিঘিœত করেছে।’ শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারসহ পাঁচটি রাষ্ট্রকে নিশানা করেছে ইরান। দেশগুলোর সরকার এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাতার এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্য দিকে ওমান তাদের ভূখণ্ডে চালানো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি অফশোর ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে ‘ড্রোন’ হামলায় এক কর্মচারী আহত হয়েছেন। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা এই ড্রোন হামলায় মার্কিন রকেট লঞ্চারগুলোকে নিশানা করেছিল। ইরান ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালী ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে এবং শনিবার এই সংকীর্ণ জলপথে আরো দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

প্রণালীর বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য চাপ দেয়া হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এনবিসিকে বলেন, এটি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য ‘উন্মুক্ত’, তবে তিনি এই বিষয়ে আর আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। রোববার দিনের শেষ ভাগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করে- তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরো এক দফা হামলা চালানো শুরু করেছে এবং জানায় এর উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর তেহরানের সক্ষমতা ‘অব্যাহতভাবে গুঁড়িয়ে দেয়া।’ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে জানিয়েছে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, এর জবাবে আইআরজিসি জর্দান, বাহরাইন এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে। ইরনা নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, ইরান জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড সেন্টার এবং কুয়েতের আলি আল সালেমসহ বিভিন্ন বিমানঘাঁটিকে নিশানা করেছে।