কূটনৈতিক প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা ইরানকে জানিয়েছে সরকার। একই সাথে হরমুজ প্রণালী পার হতে বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোকে সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের সাথে সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান। গত রোববার তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরাম সম্মেলনের সাইডলাইনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলের সুযোগ করে দেয়ার জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ পারাপারের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশের তালিকায় ইরান যখন বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে আটকা পড়ে। এরপর কয়েক দফায় হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সারবাহী জাহাজটি। বর্তমানে এটি আমিরাতে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে সব পক্ষের সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উভয়পক্ষ উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় খলিলুর রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীর সাথে বৈঠকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ও অপরিশোধিত তেলবাহী বাংলাদেশমুখী আরেকটি জাহাজের জন্য নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার পথ সুগম করার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে যথাযথ ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রদূত জানান।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ১৩তম সংসদ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
প্রসঙ্গত, ইরানে আটকা পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশীকে দেশে ফিরতে সহায়তা দেয়ার জন্য খলিলুর রহমান ইতঃপূর্বে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।



