সাগরে ট্রলারডুবি : ৪২ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ ৬ জেলে

স্বজনদের আহাজারি

Printed Edition

গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ ছয় জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় মাছ ধরার ট্রলারগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

জানা গেছে, শনিবার রাতে কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা এমাদুল সিকদারের ট্রলারটি ১১ জেলেকে নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। রোববার রাত ১০টার দিকে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজরা হলেন- এমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন হাওলাদার (৪৫), ফোরকান সিকদার (৫৫), তার ছেলে সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) ও আক্কাস (২৫)।

বেঁচে ফেরা ট্রলার মালিক এমাদুল সিকদার জানান, ট্রলার উল্টে গেলে বেশির ভাগ জেলে ভেতরে আটকা পড়েন। কয়েকজন বের হতে পারলেও সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রায় ছয় ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ জানান, প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি মুহূর্তেই ডুবে যায়। পরে তারা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া ধরে দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন।

মঙ্গলবার গলাচিপার খরিদা, তুলারাম ও দক্ষিণ ইছাদী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন। আক্কাসের মা শাহানাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলে ফিরে না এলে ছোট নাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। হারুন হাওলাদারের স্বজনরা জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরলেও তিনি আগে কখনো এমন দুর্ঘটনায় পড়েননি।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন নিখোঁজ প্রতিটি জেলের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার টাকা করে দিয়েছে। সোমবার এমাদুল সিকদারের বাবা গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উদ্ধার অভিযান আরো জোরদার করা হবে। কুয়াকাটা নৌপুলিশের পরিদর্শক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো: ইজাজুল হক বলেন, ট্রলারডুবির পর থেকেই কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবরও নেয়া হচ্ছে।