তিন জেলায় বজ্রপাতে প্রাণহানি ৪ জনের, আহত ৫

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল শনিবার বজ্রপাতের ঘটনায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ তোলার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হন আরো দু’জন। নওগাঁর পতœীতলায় গম কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে একজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হন। অপর দিকে মাগুরার শ্রীপুরে পেঁয়াজ তোলার সময় বজ্রপাতে এক দিনমজুরের মৃত্যু এবং এক নারী আহত হন।

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খড়িবাড়িয়া মাঠে শনিবার দুপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরো দু’জন আহত হন। স্থানীয়রা জানায়, খড়িবাড়িয়া গ্রামের অপু বিশ্বাস ও সমীর বিশ্বাস মাঠে জমিতে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে তারাসহ আরো দু’জন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অপু বিশ্বাস ও সমীর বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রঞ্জন কুমার ও রঞ্জিত বিশ্বাস নামের দুই কৃষক আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শৈলকুপা থানার ওসি শাকিল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পতœীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার শিহাড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শীতল মাঠ এলাকায় গম কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে তিন কৃষক আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় আশরাফ (৩৫) নামে এক কৃষক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সাথে থাকা তারেক ও শরিফ নামের আরো দুই কৃষক গুরুতর আহতাবস্থায় সাপাহার মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ও আহত তিনজনই পতœীতলা উপজেলার শীতল মাঠ এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পতœীতলা থানার ডিউটি অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর মাঠে শনিবার বেলা ১১টার দিকে পেঁয়াজ তোলার সময় বজ্রপাতে সুরুজ মিয়া (৪০) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের গুলজার হোসেনের ছেলে। কাজের সন্ধানে শ্রীপুরে এসেছিলেন তিনি। একই উপজেলার চন্ডিখালী গ্রামের চায়না বেগম (৪২) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় সুরুজ মিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহিন মিয়া জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কাজ না করতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।