ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া পদোন্নতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের দায় দুদক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চাপাতে চাচ্ছে। এ অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ নিজেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের তথ্য উপস্থাপন করে নিজের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগের প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, দুদকের মুখপাত্র তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার দাবি করলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান, ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দবন্ধটি ভুলবশত ব্যবহার করা হয়েছে। একই সাথে তা সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধও করা হয়। তবে এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো সংশোধনী দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় তার সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মানহানি হয়েছে। দুদকের অভিযোগের প্রথম অংশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে অর্থ নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কোনো পদোন্নতি ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তির রায়ও দেয়া হয়। সেই রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ১১২ জনকে চলতি দায়িত্ব দেয়ার আদেশ ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় বাতিল করে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।
অন্য একটি অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং পছন্দমতো পদায়নের বিনিময়ে প্রায় দুই কোটি টাকা নেয়ার প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ এ সংক্রান্ত সরকারি পদোন্নতির আদেশ জারি হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। নিজের পদত্যাগ ও সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি হয় ১১ মে ২০২৬। তাহলে বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া এই পদোন্নতির সাথে আমাকে কিভাবে জড়ানো হয়?’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হতো, তাহলে ২০২৬ সালের ১১ মে জারি হওয়া পদোন্নতির বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন হলে বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা। এর পরিবর্তে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কেন?’
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, দুদকের দায়ের করা অভিযোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন নয়; বরং তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা। তবে স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এ দিকে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের কারণে তার যে মানহানি হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান এনসিপির এই মুখপাত্র।



