- থাকছে ইফতার তারাবির ব্যবস্থা
- তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে না
- বিক্রেতাদের ক্ষতির শঙ্কা
একুশে বইমেলা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এবার মেলা ও রমজান একই সাথে হওয়াতে মেলা মাঠে রোজার আবহ রাখা হচ্ছে। এতে করে মেলায় আগতরা সময়মতো ইফতার ও নারী-পুরুষরা আলাদাভাবে তারাবিসহ সব নামাজ আদায় করতে পারবেন।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সোহরাওয়র্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাসব্যাপী এ গ্রন্থমেলা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে এ মেলা শুরুর রেওয়াজ থাকলেও এবার জাতীয় নির্বাচনের জন্য তা পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তের শঙ্কায় এরই মধ্যে তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। তবে আবহাওয়ার উপযুক্ততা বিবেচনায় সরকারের পক্ষে তা রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
প্রকাশকরা জানান, এবার মেলা দেরিতে শুরু হওয়াতে বিক্রিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকে মেলা পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রমজানে বই বিক্রি কমে যাওয়া, ইফতার ও তারাবির ব্যস্ততা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ক্রেতা সঙ্কট হবে। তাই তারা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের দাবি করছেন। তবে রমজান ঘিরে এবার মেলায় ইসলামী বই বেশি বিক্রি হবে এ ধারণা থেকে তারা ধর্মীয় বইয়ের সরবরাহ বাড়াচ্ছেন। প্রতিটি প্রকাশনী তাই কুরআন, হাদিসসহ ইসলামী নানান বই প্রকাশনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আগের নির্ধারিত সময় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বই মেলা হচ্ছে। কারণ প্রকাশকদের মেলা পেছানোর দাবি সরকার মেনে নিলে এ বছর আর মেলা অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসলেও মেলা অনুষ্ঠানের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন তা আর আগামী ডিসেম্বরের আগে পাওয়া যাবে না। কারণ মার্চের শেষ আর এপ্রিল থেকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। যেহেতু বইমেলা খোলা জায়গায় করতে হয় তাই খারাপ আবহাওয়াতে খোলা মাঠ মেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সে দিক বিবেচনায় এ বছর বাদ দিয়ে আর আগামী বছরে মেলা করতে হবে। তাই সব বিবেচনায় সরকার মেলার সময় আর না পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরু করবে।
এ বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ’ঐতিহ্য’ এর স্বত্বাধিকারী প্রকাশক ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান নাইম নয়া দিগন্তকে জানান, প্রকাশকরা যে শঙ্কা থেকে মেলা পেছানোর দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় তা একেবারে অমুলক বলা যাবে না। আবার এটাও ঠিক ফেব্রুয়ারির পর ঝড় বাদলে মেলা হলে ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কাও বেশি। এখন সরকার কি সিদ্ধান্ত দেবে তা রাষ্ট্রীয় বিষয়। তিনি বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হলে সে সময় রমজান থাকবে। তাই তারা ধারণা করছেন এবার ইসলামী বই বেশি বিক্রি হবে। সেই বিবেচনা থেকে অনেক প্রকাশক ধর্মীয় বইয়ের সরবরাহ বাড়াবেন। আর বিক্রেতারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এ জন্য তারা স্টল ভাড়া কমাতে বাংলা একাডেমির কাছে আবেদন করেছেন। যদি তা গ্রহণ হয় তবে লোকসানের আশঙ্কা কমে আসবে।
অন্য দিকে ‘উৎস’ প্রকাশনর স্বত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম বলেন, এবারের বইমেলা ঘিরে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা খুব কম। তাই ছাপাখানায় বই ছাপার ব্যস্ততা কম। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি থেমে মেলা শুরু হলেও যেহেতু তখন রমজান মাস তাই দিনের বেলায় পাঠক কম থাকবেন। আর সারা দিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতার, তারাবি ও ধর্মীয় ব্যস্ততায় মেলায় আসার মতো মানুষ খুব কম। আবার রমজানের শেষ ভাগে ঈদের প্রস্তুতি ও গ্রামে ফেরার চাপ বাড়ায় ঢাকা শহর ক্রমেই ফাঁকা হতে পড়ে। ফলে বইমেলায় আশানুরূপ ক্রেতা সমাগম হবে এমনটা প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এবং বাংলা একাডেমির সচিব সেলিম রেজা বলেন, একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। তিনি বলেন, এবার যেহেতু মেলা ও রমজান একই সময়ে তাই মেলা মাঠে রমজানের আবহ রাখা হয়েছে। এতে করে আগতরা ইফতার ও সূরা তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবেন। এজন্য পর্যাপ্ত পানি এবং ওজুর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
মেলা পেছাতে প্রকাশকদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন মেলা না করলে এ বছর আর সম্ভব হবে না। কারণ ফেব্রুয়ারির পর আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। ঝড়বৃষ্টিতে মেলা অসম্ভব। ফলে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত সময়েই মেলা হবে। মেলায় ইতোমধ্যে স্টল বরাদ্দে আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, তার চূড়ান্ত আজ জানা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ দিকে পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি ও বইমেলা স্টান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক আবুল বাশার ফিরোজ বলেন, আমরা মেলা পেছানোর দাবি জানালেও এটা বুঝতে পারছি দুই দুইবার মেলা পেছানো অনেকটা কঠিন। অন্য দিকে এ মাসের পর আবহাওয়া ভালো থাকবে না। এতে মেলা অনুষ্ঠান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সব বিবেচনায় সরকার যদি নিধারিত ২০ ফেব্রুয়ারিতে মেলা করতে চায় তাতে আর আমাদের আপত্তি থাকবে না।



