ঢাবিতে আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক সেমিনার

Printed Edition
ঢাবিতে ফারসি ভাষা সাহিত্য বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে অতিথিরা
ঢাবিতে ফারসি ভাষা সাহিত্য বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে অতিথিরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচএম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্জ আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের পর্বে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা একজন রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ব্রিটিশ-ভারতে তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার, শিক্ষা বিভাগের একমাত্র ভারতীয় সহকারী পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির প্রথম ফেলো। বাঙালি জাতি-মানস গঠনের অন্যতম সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কাছে অশেষ ঋণে আবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনবদ্য অবদানকে আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মদর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে ভিসি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদের চলার পথে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি সেমিনার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

সেমিনারে নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এবং স্ট্যামফোর্ড, আমেরিকার রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক আলোচনায় অংশ নেন। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি