নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের ডিস্টিংগুইজ ফেলো, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মাদ্রাজের অধ্যাপক লে জে (অব:) শঙ্কর প্রসাদ ইউটিউব চ্যানেল পিগুরুস’এ আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘গানারশট’এ বাংলাদেশকে একটা ‘তীব্র ঝাঁকুনি’ দেয়ার কথা বলে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নমনীয় নীতি ত্যাগ করে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করা উচিত। এজন্য তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রফতানি নিষেধাজ্ঞা, ঋণ স্থগিত, কঠোর ট্রানজিট নিয়ম এবং জোরালো সামরিক সঙ্কেত দিতে হবে।
ভারতীয় এই সমরবিদ বলেন, হাসিনা চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে ঝুঁকেছিল। কাজ হয়নি। সবাই জানে তার পরিণতি কী হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া একই কাজ করেছিলেন। তারেক রহমান একই পথ অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশ খাদ্য, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, চিকিৎসা এবং আঞ্চলিক সংযোগের জন্য ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ভারতকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে- সুতরাং বাংলাদেশকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়ার সময় এসেছে। চীন ও বাংলাদেশের গেম প্ল্যানের অংশ হিসেবে জেনারেল শঙ্কর মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন, তিস্তা প্রকল্প ও লালমনিরহাট বিমানবন্দর ব্যবহারের বিপরীতে মানচিত্র দেখিয়ে বলেন, চোপড়া, ধুবরি, কৃষণ নগর, আগরতলা ও মিজোরামের দক্ষিণে ভারত পাল্টা সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। সেখানে ভারতীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ চলছে এবং প্রয়োজনে রংপুর ও চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে প্রত্যর্পণ সম্পর্কে জেনারেল শঙ্কর বলেন, ট্রাইব্যুনালটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, তাই ভারতের জন্য এই দাবি মানার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সাথে যুক্ত করার বিষয়টিকে চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীন, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে, তুরস্ক এবং চীনের সাথে ড্রোন উৎপাদন সহযোগিতার মতো সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগও রয়েছে। এটি ভারতের নিরাপত্তার জন্যে উদ্বেগের। একই সাথে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সহযোগিতাকে তিনি কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে অভিহিত করেন।
জেনারেল শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশ ভারতীয় কৃষি পণ্য আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। চাহিদার ৬৯% চাল, ৬৭% গম, ৫০% চিনি ও ৩৫% পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। বিদ্যুতের প্রায় ৮% থেকে ১০% আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয়। তৈরী পোশাক খাতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সুতা, চিকিৎসার জন্যে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশীদের ভারত ভ্রমণ ও শিল্পের কাঁচামালের জন্য ভারতের উপর নির্ভরতা ছাড়াও নেপাল ও ভুটানে ট্রানজিট রুটের কথা তিনি উল্লেখ করে বলেন, এসব চাহিদা বাংলাদেশ চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করে মেটাক। তিনি পানি বণ্টন ও সীমান্ত নিরাপত্তা, তিস্তা নদী প্রকল্প এবং গঙ্গা পানি চুক্তির ব্যাপারে ভারতকে কোনো সহযোগিতা না করার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতের উচিত খাদ্যশস্য রফতানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বা ন্যায্য মূল্য আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। ভারতের পক্ষ থেকে বাড়তি তোষামোদ না করে একটি স্পষ্ট ও শক্ত বার্তা প্রদান করা যাতে বাংলাদেশ বুঝতে পারে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই পক্ষের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।



