অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সাথে জামায়াতের বাজেট ভাবনা

জাতির ওপর শ্বেতহস্তী চাপানো নয় চাই কর্মসংস্থানমুখী বাজেট

Printed Edition
জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সাথে জাতীয় বাজেট ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার   : নয়া দিগন্ত
জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সাথে জাতীয় বাজেট ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাথে জাতীয় বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, গতানুগতিক বাজেটের নামে জাতির ওপর শ্বেতহস্তী চাপিয়ে নয় বরং কর্মসংস্থানমুখী বাজেট বাস্তবায়নের সময় এসেছে। প্রতি বছর বাজেট বাস্তবায়নে খরচের গুণগত মান নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, বাজেট ঘিরে দুর্নীতি রোধ করে বরাদ্দে স্বচ্ছতা আনতে না পারলে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করে কোনো লাভ হবে না।

গতকাল রোববার ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের ডিন প্রফেসর ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। মতবিনিময়ে অংশ নেন সংসদ সদস্য, গবেষক, সাবেক সচিব, সিনিয়র সাংবাদিক ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

প্রফেসর ওয়ারেসুল করিম মনে করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুর্নীতিগ্রস্ত, এটি পুরনো কথা। দুর্নীতির কথা বাদ দেয়া হলে এটি চরম অলস সংস্থা। এই অর্থনীতি বিশ্লেষক বলেন, নতুন করের আওতা না বাড়িয়ে এনবিআর গরিবের থেকে নেয়ার পলিসিতেই বেশি জোর দিচ্ছে। তারা পারলে পুরোটাই পরোক্ষভাবে ভ্যাট দিয়ে আদায় করে নিতে চায়। এতে বস্তুতপক্ষে গরিবের ওপর থেকে বারবার ভ্যাট আদায় হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামোতে গরিবের ওপর ভ্যাট বেশি পড়ে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যে গরিবের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ভ্যাট নিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে দরকার প্রয়োজনীয় বাজেট ঘোষণা। বড় বাজেট দরকার নেই। বাজেট ছোট হলেও যদি কোয়ালিটিফুল হয়, সেটিই হবে দেশের মানুষের প্রত্যাশার বাজেট।

এই বিশ্লেষক বলেন, অগ্রিম আয়কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ানো সমাধান না। ট্যাক্সের হার বাড়ানো বাহাদুরিও নয়। ট্যাক্সের আওতা বাড়ান, যারা দিচ্ছে তাদের ওপর বাড়তি চাপিয়ে দিয়েন না। যারা দিচ্ছে না, তাদের থেকে আদায় করুন। দেশে বড় বাজেট ঘোষণার পর সেটি সংশোধন করে কমানো হয়। তখন তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা উচিত। কেন তারা এত বড় বাজেট দিলো, যেটি আদায় সম্ভব হবে না। এই জবাবদিহিতা থাকা উচিত।

মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ওয়ারেসুল করিম বলেন, বাজেটে প্রতি বছর খরচ ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে কিন্তু এ খরচ বৃদ্ধির লাগসই কৌশল নিতে না পারলে প্রতি বছর বাজেটের নামে জাতির ওপর যে শ্বেতহস্তী চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা থেকে জাতি মুক্তি পাবে না। সুশাসনে ব্যর্থতার জন্যই ২৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ ছাড়াও ছয় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। নন ব্যাংকিং পারফরমিং, অতিরিক্ত করারোপ, সুদের হার বৃদ্ধি, সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেয়া জাতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে ব্যাংকের সুদ আরো বেড়ে যাবে। সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ আরো বাড়বে। অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এনবিআর কর্মসংস্থানমুখী কোনো পরিকল্পনা দিতে পারছে না। করের আওতা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে মূল্যস্ফীতি যেন ১০ শতাংশের ওপরে না ওঠে। ভ্যাট কমিয়ে বাজেট বরাদ্দে দক্ষ হয়ে উঠতে না পারলে, ব্যবসার খরচ কমাতে না পারলে বিনিয়োগও আসবে না। এজন্যে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

প্রফেসর ওয়ারেসুল বলেন, ‘ডেলাইট ব্যাংক রবারি’র সুযোগ বন্ধ করতে হবে। ম্যার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতো ব্যাংক এখন কোন ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে এটা অবিশ্বাস্য। বাজেট বাস্তবায়নে যেন সবাই দেখতে পায় সরকার ধনীর শত্রু নয়, গরিবের বন্ধু। দরপত্র বাছাই করতে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এমনভাবে বিনিয়োগ করতে হবে যা পুনরায় জনগণের সঞ্চয় নিয়ে যেন বিনিয়োগ আকারেই ফিরে আসে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে না পারলে এটা সম্ভব হবে না।

কর আদায়ে সঠিক পদ্ধতি আরোপে ডিজিটাল অ্যাকাউট্যান্সিতে আরো দক্ষ হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রফেসর ওয়ারেসুল বলেন, খাতুনগঞ্জের যে ব্যবসায়ীর প্রতিদিন বিক্রি এক কোটি টাকা তিনি বছরে কিভাবে মাত্র ১০ হাজার টাকা কর দেন। এভারকেয়ার, স্কয়ারসহ বড় বড় হাসপাতালগুলোর কর হিসেব তিনি দক্ষতার সাথে যাচাইয়ের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ভর্তুকি হিসেবে চলতি মূলধন দিয়ে সরকারের উচিত অর্থ সহায়তা দেয়া। শুধু বন্ধ কলকারখানা চালুতে অর্থসহায়তা দিলে তা খুব একটা কাজে আসবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বেশ কয়েকটি বাজেট আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ সংসদে তুলে ধরা হবে। সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এগুলো বাস্তবায়ন না করলেও আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। কারণ মানুষ তার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাজেটকে এখনো হাতিয়ারে পরিণত করতে পারেনি। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ে সীমাহীন দুর্নীতি থেকে সরে আসতে হবে। বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিলাসী মানসিকতা পরিহার করতে হবে। জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে না পারলে বড় বড় বাজেট কাজে লাগেনি, কাজে আসবেও না। এর কারণ হচ্ছে নৈতিকতা ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিতে না পারায় জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে এত কম বরাদ্দ দিয়ে কোনো দেশ ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি বাংলাদেশও পারবে না। তিনি শিক্ষা খাতে অন্তত ৬ শতাংশ, কৃষিতে ১০ এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বরাদ্দ একসময় জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ হয়ে ফিরে আসবে।

মতবিনিময় সভায় নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, যারা বাজেট প্রণয়ন করছেন তাদের জনআকাক্সক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে। বাজেট তৈরির সাথে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ত থাকা জরুরি। তৃণমূল পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা বাজেটের বরাদ্দে না এলে জনগণের জীবনমানোন্নয়ন সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে তিনি বাজেটে কৃষি খাতে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদেশী ঋণ কমিয়ে দেশে সম্পদের উৎসন্ধান জরুরি। তিনি বলেন, কৃষকরা তাদের সারের চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি জোগান পাচ্ছে না। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। খনিজসম্পদ অনুসন্ধানে বরাদ্দ বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতে হবে সরকারকে। এজন্য প্রয়োজন গতানুগতিক বাজেট প্রণয়ন থেকে বের হয়ে আসা।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী বলেন, বাজেটের আকার বড় হলে হবে না তা কতটা জনকল্যাণমুখী সেটাই বিবেচ্য। তিনি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় ৯৭ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েও তিনি নির্বাচন করেছেন, এ ধরনের সুযোগ বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে বাজেট নিয়ে বোঝাপড়া গড়ে না উঠলে, বাস্তবায়নে দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা রয়ে গেলে কিছুই হবে না। এসব তদারকির জন্য তিনি বিরোধীদলগুলোকে বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, দুর্নীতি দূর করে বাজেট বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত জরুরি। বাজেট চমকপ্রদ হলেও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা ও শিক্ষা খাতে কম বিনিয়োগ পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পারছে না। তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় সবচেয়ে দুর্বল ব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। নুরুন্নেসা সৌর বিদ্যুতের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব দেন।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের জন্যে চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিরোধীদল বাজেট কাঠামো পরিবর্তনে সরকারকে পরামর্শ ও সহায়তা দিতে পারে। এজন্যে সংসদে বিরোধীদলকে জোরালো ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেট সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে পারলে সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ পাওয়া যাবে।

সাবেক সচিব খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, আমলারা বাজেট তৈরি কেন করেন এ প্রশ্ন আজকাল উঠছে কিন্তু গত ২০ বছর ধরে আমলারাই তা করছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সময় বাজেট প্রণয়ন এতটা আমলা নির্ভর ছিল না। এখন সময় এসেছে বাজেট প্রণয়নে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ত হওয়ার। তিনি বলেন করারোপ থেকে কর রেয়াত ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত দেয়া হয়। এটা কারা পায় তা দেখা জরুরি। অনেক সময় বাজেট বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা না থাকায় সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কমে যায়।

মতবিনিময় সভায় মুক্ত আলোচনায় নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, বিকল্প বাজেট উপস্থাপন জরুরি। এতে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারলে বাজেট বরাদ্দ কমলেও গুণগত মান নিশ্চিত হবে। ফলে গরিব মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে না। একই সাথে কর আদায়ে সংস্কার করার পাশাপাশি ধনী ব্যক্তিদের জনকল্যাণমূলক কাজে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের কর রেয়াতের সুযোগ দেয়া যায়। এ জন্য বাজেটের কাঠামোগত পরিবর্তনের চিন্তা জরুরি।

ইআরএফের সাবেক সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা বলেন, বিদেশী ঋণের পরিমাণ ১১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও ঋণ সংগ্রহকে অনেকে দক্ষতা ভাবছেন এটা ঠিক নয়। বরং কর্মসংস্থানে জরুরি উদ্যোগ নিয়ে দেশের ভেতরেই সম্পদের উৎস সন্ধান করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মনোযোগ দেয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদের হার হু হু করে বাড়ছে, ব্যাপক ঋণ ব্যবস্থাপনাকে সামাল দিতে হচ্ছে, এ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।

বাংলাদেশ পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সদরুল হাসান বলেন, জালানি খাতে ভর্তুকির নামে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ কমাতে বিদ্যুৎ খাতে চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা না করলে বাজেট বরাদ্দে একটা বিরাট অপচয় রয়ে যাবে। সিনিয়র সাংবাদিক লূৎফুল কবীর সাদী বলেন, বাজেটে জাকাত ও ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়ার জন্য তিনি জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানান। এসএ টিভির বার্তা সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবলু বলেন, অর্থনৈতিক খাতে পরিসংখ্যান শুদ্ধ করা না হলে বাজেটে এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েই যাবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী বাজেট যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর যতগুলো বাজেট হয়েছে, সেগুলো ছিল ঋণ নির্ভর। আমরা আশা করব, আগামী বাজেটটি তেমন হবে না। আমরা দেশের মানুষের ওপর ঋণ চাপিয়ে দেয়ার বাজেট থেকে বেরিয়ে আসব বলে বিশ্বাস রাখছি। জামায়াত বাজেটের কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দেবে। এনবিআরের সংস্কার আগে করতে হবে। দুর্নীতি, অপচয় চলতে থাকবে এবং উচ্চ বিলাসী পরিকল্পনায় বাজেট ব্যয়ে অর্থ পাচার হবে এটা মেনে নেয়া হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষ্কার অবস্থান না নিলে এ অবস্থার পরিবর্তন আনা যাবে না। তিনি বলেন, সরকার কি সংস্কার করবে তা ঘোষণা দেয়া উচিত। রাঘব বোয়ালদের রাশ টেনে ধরতে না পারলে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। নৈরাজ্য চলতে থাকলে বাজেটে সক্ষমতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা প্রত্যাশা পূরণে তরুণরা যে রক্ত দিয়েছে তার ঋণ পরিশোধ করতে হলে দ্বিচারিতা পরিহার করে সরকারকে সংস্কারের পথ ধরতেই হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি, চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিলে বিশ কোটি মানুষ তা পাবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। দেশে হতদরিদ্র মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দিন, ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নিয়ে ভর্তুকি হিসেবে তেলা মাথায় আরো তেল দেয়ার দরকার নেই। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামী ট্যাক্স কমিয়ে ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছে। একই সাথে বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ব্যয়ের দাবির পাশাপাশি শ্রমিকবান্ধব নীতি : বন্ধ কলকারখানা চালু করে ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল।