রোহিঙ্গাদের তহবিল ঘাটতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর উদ্বেগ

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল ঘাটতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, এই সঙ্কটের একমাত্র টেকসই সমাধান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।

গতকাল নিউ ইয়র্কে ইউএন উইমেনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সীমা বাহুসের সাথে বৈঠকে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে ইউএন উইমেনের সাথে সহযোগিতা গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা প্রবর্তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করে শামা ওবায়েদ স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, উন্নত প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল নারী ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং নারী ক্ষমতায়ন ও ডব্লিউপিএস এজেন্ডার নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে ইউএন উইমেনের প্রস্তুতির কথা জানান। সীমা বাহুস শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশী নারীদের অবদানকে সাধুবাদ জানান।

রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ মেয়াদে আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

গতকাল জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ের সময় দেয়া বক্তব্যে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ কথা বলেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেয়ার ফলে বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্থায়ী প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের আহ্বান জানান, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।