বিশেষ সংবাদদাতা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে বিএনপি। গতকাল বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে আয়োজিত এ বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে বিকেল ৪টার দিকেই মসজিদে পৌঁছান তারেক রহমান। তার সাথে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মুনাজাতে অংশ নেন তার সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শামিলা রহমান এবং তাদের সন্তানরা।
দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মীর নাসির, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুস সালাম, জয়নুল আবেদীন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আমিনুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মিলাদে অংশ নেন।
জাইমা রহমানের কবর জিয়ারত
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যরা।
তারেক কন্যা তার চাচি সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথিকে নিয়ে সকালে জিয়া উদ্যানে আসেন। এ সময় খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিনা ইসলাম আসেন স্বামী আমিনুল ইসলামকে নিয়ে। অধ্যাপক আমিনুল আসেন হুইল চেয়ারে চেপে। সাথে ছিলেন তার ছেলে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও তার স্ত্রী। আসেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার। খালেদা জিয়ার আরেক ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও তার পরিবারের সদস্যরাও আসেন। তাদের সাথে বিএনপি চেয়ারপারসনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে দেখা গেছে।
জায়মাসহ শোকার্ত স্বজনরা খালেদা জিয়ার কবরের সামনে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কবর প্রাঙ্গণে কুরআন তেলোয়াত করছিলেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যরা।
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কবরে জিয়ারতে আসার সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়। নেতাকর্মীদের কাউকে ওই সময়ে কবরপ্রাঙ্গণে যেতে দেয়া হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জিয়া উদ্যান ত্যাগ করলে তা ফের সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর কালো ব্যাজ ধারণকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে সেখানে।
খালেদা জিয়া ত্যাগ স্বীকার করেছেন - মির্জা আব্বাস
অনেক কষ্ট সয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলন করেছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মী সেখানে খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করেন। এ সময় অনেককে কাঁদতে দেখা গেছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, ম্যাডামের জন্য দোয়া করতে এসেছি। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেস্তে নসিব করুন। এটা দুঃখ যে, সব স্বাভাবিক মত্যুকে মেনে নেয়া যায়, কিন্তু এ মৃতু্যুটাকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে এ কারণে যে, তাকে অযথাই অত্যাচার করে, অনাচার করে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। তাকে কারাগারে এমন কিছু করা হয়েছিল স্লেøা পয়েজনিং যাতে উনি বেঁচে না থাকেন।
তিনি বলেন, এ যন্ত্রণাটা সহ্য করা কঠিন ছিল। তারপরও দেশের মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি সবকিছু সহ্য করেছিলেন। আজকে তারই আন্দোলনে, ত্যাগে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। শুধু তিনি সে গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না সেটাই বড় দুঃখ।
নব্বইয়ের ছাত্র নেতাদের কবর জিয়ারত
খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব্বইয়ের ছাত্র ঐক্যের নেতারা। গতকাল বেলা ১২টায় নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি ও সে সময়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, খন্দকার লুৎফর রহমান, নাজমুল হক প্রধান, মীর সরাফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।
পরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা আজকে এখানে দেশনেত্রী-আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছি। তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করেছি।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার যে আন্তরিকতা, সেটা আজকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৬ বছর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, প্রহসনের বিচারের তাকে জেলে পাঠিয়েছে, জেলে নির্যাতন করা হয়েছে, ন্যূনতম চিকিৎসা তাকে দেয়া হয়নি। তাকে স্লেøা পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছিল; সে নির্যাতনের দায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কখনো এড়াতে পারবে না। অবশ্যই শেখ হাসিনাকে জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, আজকে কী প্রমাণ হয়েছে? তার জানাজায় যে কোটি মানুষের উপস্থিতি, এটাই প্রমাণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ঐক্যের প্রতীক, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি গণতন্ত্রের মা।
সারা দেশে বাদ জুমা বিশেষ দোয়া
বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় গতকাল তিনদিন ব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিনে সারা দেশে বাদ জুমা বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার রূহের মাগফিরাত কামনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া ও মুনাজাত করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। এতে অংশ নেন সাধারণ মুসল্লিরা। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মুনাজাতে অশ্রু ঝরান সাধারণ মানুষ। বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে একটি ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অবিসংবাদিত নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া পড়া হয়েছে। মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ এ দোয়ায় অংশ নেন।
একই সাথে দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।



