বিদায়ের জন্য প্রস্তুত উপদেষ্টারা

উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন উপদেষ্টারা। তারা নিজ নিজ দফতরের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছাচ্ছেন। অধিকাংশ উপদেষ্টাই জমা দিয়েছেন কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট। নতুন পাসপোর্ট নিতে সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসে আবেদনও করেছেন। কেউ কেউ পাসপোর্ট পেয়েও গেছেন। কোনো কোনো উপদেষ্টা সম্পদের হিসাবও জমা দিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন উপদেষ্টারা। তারা নিজ নিজ দফতরের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছাচ্ছেন। অধিকাংশ উপদেষ্টাই জমা দিয়েছেন কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট। নতুন পাসপোর্ট নিতে সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসে আবেদনও করেছেন। কেউ কেউ পাসপোর্ট পেয়েও গেছেন। কোনো কোনো উপদেষ্টা সম্পদের হিসাবও জমা দিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। অব্যহতি চেয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিবও।

আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। এরপর শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে বলা যায় আজ মঙ্গলবারই শেষ অফিস করবেন উপদেষ্টারা। অনেকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গত ৩১ জানুয়ারি তার সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্টও জমা দিয়েছেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন শারমীন এস মুরশিদ। তার একান্ত সচিব (পিএস) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সোমবার স্যারের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়া হচ্ছে। এরপর সবুজ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হবে। বাসা ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, ‘ম্যাডামের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো সরকারি বাড়ি নেননি। আর সম্পত্তির হিসাবও জমা দেয়া হয়েছে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের একান্ত সচিব সত্যজিত রায় দাশ বলেন, স্যারের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে, বাসা ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন কোনো সরকারি বাড়ি কিংবা গাড়ি নেননি। তিনি এখনো তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি। কারণ তিনি জাপান সফরে ছিলেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, নতুন পাসপোর্টের আবেদনও করেছেন। তিনি কোনো সরকারি বাড়ি নেননি।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সহকারী একান্ত সচিব কামরুন নাহার বলেন, ‘স্যার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেননি। সরকারি বাড়িও নেননি। তাই স্যারের এগুলো ফিরিয়ে দেয়ার বিষয় নেই। আর সম্পদের হিসাব স্যার ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন।’

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়ে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি দিয়ে দিয়েছি। আমি সাধারণত জরুরি মিটিং ছাড়া কোনো মিটিংয়ে যাই না। সেজন্য আমি দিয়ে দিয়েছি, অনেকেই দিয়ে দিচ্ছে। এটা নিয়ম, দিয়ে দেয়া।’ তার সাথে তার স্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে বলেও জানান সালেহউদ্দিন আহমেদ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সরকারি বাড়ি নেননি। তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বলে তার দফতর থেকে জানা যায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। বাসা ছাড়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ফারুক ই আজম। তার দফতর থেকে জানা যায়, তিনি ইতোমধ্যে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছেন। সবুজ পাসপোর্টও হাতে পেয়েছেন। ফ্ল্যাটও গুছিয়ে রাখছেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। মেয়াদ শেষে তিনি সেখানেই চলে যাবেন বলে তার দফতর থেকে জানা যায়।