ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : বিশেষজ্ঞদের মত

স্বল্প খরচের প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন যুদ্ধ জাহাজ তৈরি সম্ভব

এস এম মিন্টু

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সঙ্ঘাত সাম্প্র্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সঙ্কট। এটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; বরং এটি পারমাণবিক রাজনীতি, পরাশক্তির প্রতিযোগিতা, গোয়েন্দা যুদ্ধ এবং কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতার জটিল সমন্বয়। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এ সঙ্ঘাত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গেম-চেঞ্জার হিসেবে বাংলাদেশে নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জলপথে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণসহ সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে ডিফেন্স ইকনোমিক জোন তৈরি করা কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব তৈরির ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর জন্য বাজেট বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ জিয়ো-পলিটিক্স বা ভূরাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশে যুদ্ধ ক্ষেত্রে বড় পরিসরে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলেও আধুনিক উপায়ে স্বল্প খরচে ড্র্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা এবং এইসব সঙ্কট মোকাবেলায় শুধু সামরিক সরঞ্জামই নয়, যুদ্ধ ক্ষেত্রে ১৮ কোটি মানুষকে সবসময়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে মনোবল তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। প্রথমত, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি দেশের দুর্বলতা তৈরি করে। তাই বাংলাদেশের উচিত ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। দ্বিতীয়ত, নিজস্ব প্রতিরক্ষা সমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য। ইরান নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশেরও সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেমন- এয়ার ডিফেন্স (অউ) সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সমতা ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা। তৃতীয়ত, গোয়েন্দা ও প্রতিগোয়েন্দা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি। ইরানের ভেতরে বিদেশী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের অনুপ্রবেশ একটি বড় দুর্বলতা ছিল। বাংলাদেশকে এ ধরনের ঝুঁঁকি মোকাবেলায় সতর্ক থাকতে হবে। চতুর্থত, অসম যুদ্ধ কৌশল উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। বড় শক্তির সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা সম্ভব না হলেও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব।

পঞ্চমত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান টিকে আছে। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, উৎপাদনশীলতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে হবে। ষষ্ঠত, জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘ সঙ্ঘাত মোকাবেলায় জনগণের ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তমত, যুদ্ধ আর স্বল্পমেয়াদি নয়। আধুনিক যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুমাত্রিক। তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি অপরিহার্য। সবশেষে, ভূরাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি। বাংলাদেশ একটি কৌশলগত অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ ঝুঁঁকি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ইরানকে বাইরে থেকে লোক, উপকরণ, অস্ত্র আনতে হয়নি, নিজেরাই সক্ষমতা তৈরি করেছে। তাকে কোনো কনসালটেন্ট আনতে হয়নি। ড্রোন থেকে শুরু করে ব্যালেস্টিক মিসাইল সবকিছু তৈরি করেছে নিজস্ব ক্ষমতায়। তারা নিজেরা সমরাস্ত্র তৈরি করছে। এবং তাদের এ প্রিপারেশনও হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ডিফেন্স সিটি থেকে। ইরানে সফরের সময় নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপরে সড়ক দিয়ে গিয়েছি, নো রেস্ট্রিকশন, ওখানকার স্থানীয় লোকেরা আমাকে বলল যে, বারো থেকে কুড়িতলা নিচে পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো তৈরি করতে সময় লাগলেও নিজস্ব প্রযুক্তি, স্থানীয় প্রকৌশলী, স্থানীয় বিজ্ঞানী হওয়ায় সস্তায় তারা করতে পেরেছে। আমরাও চাইলে করতে পারি। আমাদের সে সক্ষমতা রয়েছে। আমাদেরও প্রকৌশলী আছে, বিজ্ঞানী আছে।

তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিস্তৃতি, অস্ত্র ক্রয়, অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি, প্রতিরক্ষা যদি ডিফেন্সিভ হয় তাহলে কী ধরনের অস্ত্র প্রয়োজন, লোকবল কেমন লাগবে, কতদিনের জন্যে সে লোকবলকে সক্ষম করে তুলবেন, অস্ত্রের বাইরেও প্রতিরক্ষা উপকরণ মজুদ রাখা, জালানি কতদিনের জন্যে মজুদ রাখবেন, খাদ্য থেকে শুরু করে অনেক বিষয়, যা নির্ভর করছে সশস্ত্র বাহিনীকে কতদিনের জন্যে ডিফেন্ড করতে বলবেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক (বাংলাদেশ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) মো: মাকসুদ হেলালী গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘাত চলমান রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় গিয়ে যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরি করছে। গত ছয় বছরে ওইসব ছেলেমেয়েদের অনেক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সরকার চাইলে সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের একটি চুক্তি করে যুদ্ধ সরঞ্জাম কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, ইরান ৪০ বছর আগে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্ত গত ২৫ বছরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারণ তারা নিজস্ব বলয় ও নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করেছে। যার ফলে তারা যুদ্ধে অনেক সক্ষমতা তৈরি করতে পারছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কী ধরনের সক্ষমতা তৈরি করছে সেগুলো আমাদের সরকারের ভাবা উচিত। সে হিসেবে আমাদেরও পাল্টা প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে সাফল্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার। আমাদের মেকানিক্যাল ছাত্ররাও কম খরচে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তারা ইতোমধ্যে বোম্ব ডিস্পোজাল তৈরি করেছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ব্যপক সাফল্য লাভ করেছে। কাজেই সরকার চাইলে সামরিক সমরাস্ত্র তৈরি করতে ইনস্টিটিউট তৈরি করে বুয়েট, কুয়েট রুয়েটসহ এ ধরনের সব শিক্ষার্থীকে সহজেই কাজে লাগানো যায়।

সাম্প্রতিক কালে দেখা গেছে, ইরান বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ২০০০-এর দশক থেকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- তেলের রফতানি কমে গেছে, আর্থিক লেনদেন সীমিত হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে এবং মুদ্রার মান কমেছে। তবুও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে গেছে এবং দাবি করেছে যে, এটি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে- বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির ( জেসিপিগএ) মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সে চুক্তি থেকে সরে এসে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ায়। ২০২৫ সালের মধ্যে ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়- যা অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি স্তর হিসেবে বিবেচিত।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়, যখন আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সামরিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা। তবে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার মাধ্যমে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এ যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোয়েন্দা যুদ্ধ। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ভেতরে তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়- বরং এটি সাইবার, গোয়েন্দা ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত।

প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের স্বরূপ : ইরানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য ‘অসম যুদ্ধ’ বা প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ : ইরানের কৌশল হলো শত্রুকে সরাসরি পরাজিত করার চেয়ে যুদ্ধকে এত বেশি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী করা যেন শত্রু পিছু হটতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে এমন এক ‘প্রতিরোধ বলয়’ তৈরি করা উচিত; যেখানে আক্রমণকারীর জন্য বিজয় অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাসের খাবার মজুদ রাখতে হবে। যেমন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য, তেল বা অন্যান্য রসদ। ভবিষ্যতে এ ধরনের সঙ্কট মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি জরুরি বঙ্গপোসাগরে অধিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। এ জন্য যুদ্ধ জাহাজ তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

সম্মুখ প্রতিরক্ষা : ইরান যুদ্ধের ময়দানকে নিজের সীমানার বাইরে রাখার চেষ্টা করে। বাংলাদেশকেও তার সীমানার বাইরে প্রভাব বিস্তার এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশ্য শত্রু নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে পার্শ¦বর্তী দেশই প্রথম আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয় সংহতি : ইরানের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দেয়। তাই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলের ভিত্তি হতে হবে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সমর্থন। জনগণকে প্রশিক্ষণের জন্য সামরিক একাডেমি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি : আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের উচিত নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করা। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গাজীপুরের সমরাস্ত্র কারখানাকে প্রতিরক্ষা ইকনোমিক জোন হিসেবে ব্যবহার করা জরুরি। সেখানেই অল্প খরচে অত্যাধুনিক ড্রোন ও মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে।

সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ : বর্তমান যুদ্ধ শুধু সশরীরে নয়, বরং তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই। একটি সমন্বিত ন্যাশনাল ডিফেন্স ডকট্রিন তৈরি করতে হবে, যা সাইবার সার্বভৌমত্ব ও ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষা করবে। ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সাগরে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব রাডার দ্বারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারতো; কিন্তু সম্প্রতি রাডারে হামলার পর আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার ত্রুটির কারণে নেভিগেশন ট্রাকাও সঠিক তথ্য পাচ্ছে না।

স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও রসদ সরবরাহ : ইরান তার অস্ত্র ও রসদ উৎপাদনে অনেকাংশে দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। বাংলাদেশকে অস্ত্র আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং নিজস্ব অস্ত্র শিল্প উন্নয়নে জোর দিতে হবে।

আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা : যুদ্ধ মানেই জ্বালানি ও খাদ্যের সঙ্কট। তাই আপৎকালীন অন্তত ছয় মাসের মজুদ বাড়ানো এবং অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাও প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হওয়া উচিত। এ জন্য সামরিক বাহিনীর জন্য বাজেট বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সবশেষে, বাংলাদেশের জন্য কৌশল হতে হবে ‘সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, জাতীয় ঐক্য’র সমন্বিত রূপ।