নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নরসিংদীসহ দেশের পাঁচ জেলা থেকে পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি পুকুর পাড়ের কচুরিপানার ভেতর থেকে নাছির উদ্দিন প্রধান ওরফে আলমাছ প্রধানীয়া নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কাশিমপুর পুরণ গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ের কচুরিপানার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাছির উদ্দিন প্রধান (৬০) উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পূরণ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাড়িতে কৃষিকাজ করতেন । গত ১৯ জুন ভোর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের ঘটনায় ২০ জুন রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল তার পরিবার।
নিহতের ভাতিজা মামুন প্রধানীয়া জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে ওনাকে না পেয়ে ২০ তারিখ রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি ( জিডি) করা হয়। সোমবার বিকেলে বাড়ির বিল্লাল হোসেন প্রধানীয়ার ছেলে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে তার লুঙ্গি দেখতে পায়। পরে খোঁজ করে সেখান তার লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ছুরিকাঘাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়া (৩২) হত্যা মামলায় বাবুল মিয়া নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকার একটি ঝোপঝাড়ের পাশ থেকে বাবুল মিয়াকে সাথে নিয়ে ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। নিহত শফিকুল ইসলামের সাথে তার চাচাতো মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক ছিল।
শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় এলাকায় বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা মিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত শফিকুল ইসলাম একই গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বাদি হয়ে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, নরসিংদীর মধাবদীতে সড়কের পাশে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে দিগন্ত (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে নরসিংদী-মদনপুর সড়কের মাধবদী খরমদী এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত দিগন্ত শেখেরচর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে। সে পরিবার নিয়ে মাধবদী বিরামপুরে এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। দিগন্ত পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো বলেও জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, রবিবার বিকালে মোবাইলে কারো সাথে কথা বলে বাসা থেকে বের হয় দিগন্ত, পরে আর বাড়ি ফেরেনি সে। রাতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে নরসিংদী-মদনপুর সড়কের পাশে খরমদী এলাকায় ময়লার স্তূপে পাশে একটি লাশ পড়ে আছে শুনে সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে দিগন্তের স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খালে ভেসে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর ৬টায় হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় খাল থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার সকালে স্থানীয় আবুল কালাম নামে এক পথচারীর চোখ পড়ে খালের দিকে। এ সময় সে একটু কাছে গিয়ে দেখতে পায় মানুষের মৃতদেহ ভাসছে। তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তি এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবগত করলে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। এরপর তারা পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন থেকে সোমবার দুপুরে আবুল মালেক মাবুদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মাবুদ দুইবার বিয়ে করলেও কোনো সংসারই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। তিনি বসতঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত হতাশা থেকে এ ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।



