হাম ও উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে এক শিশু এবং হাম সন্দেহে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮৩টি শিশুর।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭৪টি শিশু। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৭০টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৪৬টি শিশু এবং তাদের ৩৮২জনই ঢাকা বিভাগের। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৬২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।

সিলেট ব্যুরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই বছরের সাজু। সে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া এলাকার বাসিন্দা।

এ নিয়ে সিলেটে হাম উপসর্গ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়জনে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, শিশুটি হাম উপসর্গ ছাড়াও ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার সেখানে তার মৃত্যু হয়।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা: মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কারো শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম বা রুবেলা রোগ শনাক্ত হয়নি। তবে এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৪১ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৪৫ জনের শরীরে হাম ও রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে সাতজন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ১৪ জন এবং সিলেটে ১০ জন।

এ দিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে আরো ৪১ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৯ জন, জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে একজন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন ভর্তি হয়েছেন।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৪১ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ১১ মাস। সে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। গত ১৯ এপ্রিল হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮০ শিশু।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৪১ জনের বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৮ শিশু। তবে সামগ্রিক চিত্র মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৬৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এর মধ্যে ৫৫৭ জন সুস্থ হলেও ১৫ শিশুর মৃত্যু ইতোমধ্যেই গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে অভিভাবকদের মধ্যে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী জেলাজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদেরও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সোমবার সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের মাত্র ৩১টি শয্যার বিপরীতে সেখানে আটজন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০৭ জন শিশুসহ মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সঙ্কটের কারণে প্রতি সিটে ৪-৫ শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের মেঝেতেও অনেক রোগীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই হামের রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও এপ্রিল মাসে এসে এটি প্রকট আকার ধারণ করে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অনেক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত ৯টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৪৩১ জন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪০৬ জন, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০২ জন, নমুনা ঢাকায় পাঠানোর সংখ্যা ১১৪ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী ৯ জন।