খালাস পেয়ে শফিক রেহমান বললেন, ‘এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন’

Printed Edition
খালাস পেয়ে শফিক রেহমান বললেন, ‘এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন’
খালাস পেয়ে শফিক রেহমান বললেন, ‘এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের’ মামলায় আপিলে খালাস পেয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান। মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তারিক এজাজ এ রায় ঘোষণা করেন। আপিলে খালাস পাওয়ার পর বিচারপতিদের প্রশংসা করে ‘লাল গোলাপ’ খ্যাত এ সাংবাদিক বলেন, আপনারা শুনেছেন- সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যা চেষ্টার যে মামলা করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিলে, আজ সেটির রায় হলো। রায়ে মামলাটি থেকে আমাকে খালাস দেয়া হয়েছে। সুদীর্ঘ ৯ বছর পর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও প্রশংসা করছি মাননীয় বিচারকবৃন্দকে। তারা এটাও প্রতিষ্ঠা করলেন, এখন বিচার বিভাগ স্বাধীন।

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক শফিক রেহমান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে এ সাজা স্থগিতের আদেশ দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালতে শফিক রেহমান আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে মামলার আপিল দায়েরের জন্য নকল ও তার বিরুদ্ধে দেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালতে তিনি খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন। গত ২৭ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৭ মে দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর সাংবাদিক শফিক রেহমান ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনের সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক থাকায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

আদালত রায়ে অপহরণচেষ্টার দায়ে আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি হত্যার ষড়যন্ত্র করায় আসামিদের দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি ধারার সাজা একসাথে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ দলটির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে ষড়যন্ত্র করেন। তারা আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা ষড়যন্ত্র করেন। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদি হয়ে পল্টন মডেল থানায় এ মামলা করেন। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।