নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গতকাল রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, পূর্বসূরি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের প্রণীত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন করে বিচার বিভাগের সংস্কার কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মামলা জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সচিবালয় গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য স্থান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বিচার বিভাগে শুদ্ধি অভিযানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট বর্তমানে বিচার ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি অর্থনৈতিক দুর্নীতির চেয়েও ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতিকে’ অধিকতর ধ্বংসাত্মক ও মরণঘাতী হিসেবে অভিহিত করেন। বিগত ১৫ বছরে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি জানান, বর্তমানে উচ্চ ও উচ্চতর আদালতে প্রায় পৌনে সাত লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে তিনি ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’-এর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন নিম্ন আদালতের ‘জামিন বাণিজ্য’ বন্ধ করার দাবি জানান এবং মিথ্যা চার্জশিট প্রদানকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৫ বিচারপতি বিচারকাজের বাইরে : এদিকে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৬৬টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। নতুন এই বেঞ্চ তালিকায় অভিযোগ ওঠা বিচারপতি এম আর হাসানসহ পাঁচজন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
বিচারকাজ থেকে বাদ পড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন-বিচারপতি মামনুন রহমান, বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আশরাফুল কামাল।



