কোচের লালকার্ডের ম্যাচে বাংলাদেশের ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Printed Edition
  • বাংলাদেশ ১-১ ভারত
  • (ফাহিম)

ভারতের সাথে গ্রুপ সেরার ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফে ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তানের টানা দুই হারে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের। তবে কোন দল গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিতে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল ভুটানকে পাবে এ জন্য গতকালের বাংলাদেশ - ভারত ম্যাচ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচে লাল কার্ড পেলেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ পিটার অ্যাডোয়ার্ড কক্স। সাথে ভারতের গোলরক্ষক কোচ সন্দ্বীপ নন্দী। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে হঠাৎ দুই দলের ডাগ আউটে উত্তেজনা। তখনই রেফারি রাউফ রাফি দুই জনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। বাংলাদেশ কোচের এ লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারছিলেন না ভাষ্যকার। কারণ পিটার কক্স একজন উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী কোচ। সাথে কোচদের শিক্ষকও। তিনি কেন বাজে আচরণের জন্য লাল কার্ড পাবেন। এ উত্তেজনা এবং লাল কার্ডের ঘটনায় যে সময় নষ্ট হয়েছে সে ইনজুরি টাইমের ১০ মিনিটেই বাংলাদেশের সমতা সূচক গোল। ১৭ মিনিটে বিশাল যাদবের হেডে ভারত এগিয়ে গেলেও পরে লাল-সবুজদের সমতায় ফেরান আবদুল রিয়াদ ফাহিম। এ ছাড়া দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উত্তেজিত অবস্থায় দেখা গেছে কয়েকবার। ঘটনা বহুল এ ম্যাচ ড্র হওয়ায় ভারত হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আর বাংলাদেশ রানার্সআপ। ফলে ১ এপ্রিল সেমিফাইনালে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালকে।

মালদ্বীপে এক লাখের ওপর বাংলাদেশীর বসবাস। তাই বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে হাজির হন প্রচুর বাংলাদেশী। আগের দিনই গ্যালারির সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে পাকিস্তানকে হারানোর ফলে এ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। প্রথম দিনও মালদ্বীপের রাজধানী মালের স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পূর্ণ। কালতো আরো বেশি। শেষ পর্যন্ত এ দর্শকরা জয়ের আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরতে না পারলেও ভারতকে রুখে দেয়ার তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল। এখন বাংলাদেশ সেমিতে নেপাল বাধা টপকাতে পারলেই ৩ এপ্রিলের ফাইনালে খেলতে পারবে। তবে লাল কার্ড পাওয়ায় সেমিফাইনালে ডাগ আউটে থাকতে পারবেন না নতুন নিয়োগ পাওয়া আইরিশ কোচ পিটার কক্স।

ম্যাচে দুই গোলই হয়েছে কর্নার থেকে। ১৭ মিনিটে ওমাং দোদুমের কর্নার থেকে বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান বিশাল যাদব। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের বর্তমান রানার্সআপরা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভানের কর্নার থেকে ডান পায়ের শটে ভারতের কিপারকে পরাস্ত করেন ৩৯ মিনিটে মাঠে নামা আবদুল রিয়াদ ফাহিম। আশিকুর রহমানের বদলে মাঠে নামেন তিনি। এর ফলে দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের গোলে অবদান রোনান সুলিভানের। প্রথম ম্যাচে তার জোড়া গোল ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। সে ম্যাচে তিনি ম্যাচ সেরাও হয়েছিলেন। কাল অবশ্য সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গেছে ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ সিংয়ের দখলে। যদিও তার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশ কিপার মাহিনের।

বিরতির পর ভারত চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ৪৭ মিনিটে তাদের তোংগামা সিং গোল মিস করার পর ৬৩ মিনিটে ওমাং দোদুমেকে গোল করতে দেননি বাংলাদেশ কিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। ৮৯ মিনিটেও এ গোলরক্ষকের কৃতিত্বে লাল-সবুজদের রক্ষা। বিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে নেন। ৬৯ মিনিটে বাংলাদেশ গোল পায়নি অল্পের জন্য। দূর থেকে নেয়া সুমন সরেনের শট ক্রসবার ঘেঁষে যায়। ৯৪ মিনিটেও বাংলাদেশ পারেনি জয়সূচক গোলটি পেতে। ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বদলে গ্রুপ রানার্সআপেই সন্তুষ্টি।