নিজস্ব প্রতিবেদক
নদ-নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ মন্তব্য করে পরিবেশবিদরা বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অস্তিত্ব রায় দেশের সব নদ-নদী, খাল ও জলাশয় সুরার কোনো বিকল্প নেই। শুধু সরকারি একক উদ্যোগে নয়, বরং নদী ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বিশেষজ্ঞদের প্রত্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস কাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিলনায়তনে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নোঙর’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন। ‘জনসম্পৃক্ত নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা : টেকসই ভবিষ্যৎ ও যৌথ দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। নদী ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার মতা বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। যোগ্য বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে জাতীয় যৌথ নদী কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা হবে।
সেমিনারে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা এখন আর কেবল কারিগরি বা প্রকৌশলগত বিষয় নয়। টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে হলে পানি ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষের যৌথ দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদী অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষি সুরাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।
এতে ঢাকার প্রধান নদী বুড়িগঙ্গার বর্তমান সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বুড়িগঙ্গা আমাদের প্রাণ এবং এই নদীকে কেন্দ্র করেই ঢাকা শহর গড়ে উঠেছে। অথচ আমরা প্রতিনিয়ত এই নদীর কথা ভুলে যাই। ঢাকার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে বুড়িগঙ্গাকে দূষণ ও দখলমুক্ত করতে হবে।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া তিস্তা নদীসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি গঙ্গা চুক্তির মতো দ্বিপীয় বিষয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি, টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যুক্ত করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়। সেমিনারে উপস্থিত পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকরা একমত হন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির অপচয় রোধ এবং নদীগুলোকে জীবন্ত সত্ত্বা হিসেবে বাঁচিয়ে রাখতে রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পকেই যৌথ দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে।



