কুমিল্লায় দুই জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সুষ্ঠু পরিবেশ চায় জামায়াত

হাবিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা
Printed Edition
কুমিল্লায় দুই জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সুষ্ঠু পরিবেশ চায় জামায়াত
কুমিল্লায় দুই জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সুষ্ঠু পরিবেশ চায় জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৮১ জন প্রার্থী। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। তারা জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। গণসংযোগ ও নির্বাচনী সমাবেশ করছেন প্রার্থীরা।

কুমিল্লা-১ (দাউকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোকারোফ হোসেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের মনিরুজ্জামান বাহালুল। এ ছাড়াও আসনটিতে আরো পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। জামায়াতের প্রার্থী মোল্লা নাজিম উদ্দীন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস-২ ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল। এখানে আরো সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ওই আসনে শক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় হাসনাতের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। তবে এই আসনে গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কা প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীনকে বিএনপি ঘোষণা দিয়ে সমর্থন দিয়েছে।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন। জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন। এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখানে আরো আটজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন) আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি গত শনিবার ১৭ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। এখানে বিএনপির আরো দুইটি গ্রুপ রয়েছে। সেই ভোট নিজের বাক্সে নেয়া মনিরুল হক চৌধুরীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এ ছাড়া এখানে আরো সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। এখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সোলাইমান খান। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আরো তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিযা তাহের সুমন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল। সম্প্রতি জামায়াতের প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা করা হয়। সুষ্ঠু ভোট হলে এই আসনেও ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লায় লড়াই হতে পারে। এখানে আরো ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) এই আসনে বিএনপি প্রার্থী লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম। জামায়াতের প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দিকী। এ দুইজনের মধ্যেই লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখানে আরো ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া। তিনি সম্প্রতি মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। এখানে আরো চারজন প্রার্থী রয়েছেন।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কামরুল হুদা। আসনটিতে আরো পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।