মৌলভীবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে সৌহার্দ্যরে অনন্য দৃষ্টান্ত

এম এ রকিব, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
Printed Edition
মৌলভীবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে সৌহার্দ্যরে অনন্য দৃষ্টান্ত
মৌলভীবাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে সৌহার্দ্যরে অনন্য দৃষ্টান্ত

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক উত্তাপ ও ভিন্ন মতাদর্শের অবস্থানের মধ্যেও সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) আসন। এবারের নির্বাচন উপলক্ষে চ্যানেল ২৪-এর বিশেষ আয়োজন ‘ব্যালটে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দেওড়াছড়া চা-বাগানের বধ্যভূমি মাঠে অনুষ্ঠিত জোহরের নামাজে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।

নামাজে ইমামতি করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ বিলাল। মুসল্লি হিসেবে তার পেছনে নামাজে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও একই আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম. নাসের রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীরা। নির্বাচনী মাঠে যেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সাধারণত মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের এই দৃশ্য স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, পারস্পরিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের মানুষ সঙ্ঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চর্চাই একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি।

এর আগে গত শুক্রবার মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনেও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের অনুরূপ একটি দৃশ্য দেখা যায়। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: দুদু মিয়ার নামাজে জানাজার আগে একসাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায় ওই আসনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থীকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজায় অংশ নেন জেলা বিএনপি নেতা ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু এবং ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত) প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী। নামাজ শুরুর আগে তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সামাজিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার এই সংস্কৃতি মৌলভীবাজারের নির্বাচনী পরিবেশকে আরো শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল করে তুলছে।