খুলনার বেতগ্রাম-কয়রা ভায়া তালা-পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। মাঝপথে কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল দুই বছর, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন। তবে নানা জটিলতায় তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয় এবং ব্যয় বাড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তবুও কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজে নি¤œমানের বালু, ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। সাবগ্রেড ও সাববেজ তৈরির সময় রোলার দিয়ে যথাযথভাবে কম্প্যাকশন না করায় নতুন নির্মিত অংশে ইতোমধ্যে ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পুরনো কারপেটিংয়ের ওপর নতুন কারপেটিং করায় টেকসই হয়নি রাস্তার অবস্থা।
এ বিষয়ে সওজ খুলনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, সময় মতো কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও কালো তালিকাভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করায় শর্তসাপেক্ষে কাজ পুনরায় শুরু করতে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পেলে তা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তারা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করে পুনরায় কাজ শুরু করেছেন। কয়রা অংশের প্রায় সাত কিলোমিটার অসমাপ্ত সড়ক দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং পর্যায়ক্রমে পাইকগাছা অংশের কাজও সম্পন্ন করা হবে।



