শিার হালচাল নিম্নমুখী

নিকলীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে চলছে ৪০ শিাপ্রতিষ্ঠান

Printed Edition

আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নিকলীতে শিার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক। এ ছাড়া পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদরাসা ও একটি কলেজেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়েই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৭টিতে প্রধান শিক রয়েছেন। বাকি ৩৩টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করা শিকদের প্রশাসনিক দতা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় অভিভাবকেরাও।

দামপাড়া ইউনিয়নের আলিয়াপাড়া এবি নুরজাহান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক শাহ মো: আহসান উল্লাহ ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর প্রায় ৯ বছর ধরে সহকারী শিক মো: জসিম উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। মজলিশপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক মো: হোসেন আলী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অবসরে গেলে সহকারী প্রধান শিক রফিকুল ইসলাম মৃধা ভারপ্রাপ্ত প্রধান হন। একই সময়ে নিকলী জিসি সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক কারার আবদুর রশিদ অবসরে গেলে সহকারী শিক অজিত কুমার দায়িত্ব পান।

জারুইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক মো: বেলায়েত হোসেন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অবসরে যাওয়ার পর সহকারী শিক আতিকুর রহমান ভূঁইয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাতিরচর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক বদরুল আমিন চৌধুরী অবসরে গেলে সহকারী শিক নজরুল ইসলাম সৃজন দায়িত্ব পান। মোহরকোনা আশরাফিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মাহবুবুর রহমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অবসরে গেলে সহকারী সুপার মো: দেলোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত সুপার হন।

নিকলী সরকারি আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা কলেজেও দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্য দিয়ে কার্যক্রম চলছে। অধ্য প্রফেসর মোনাব্বির হোসেন যোগ দেয়ার পর পরিবেশের উন্নতি হলেও পরে তাকে কুলিয়ারচর সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। এরপর পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যরে দায়িত্ব পান দীপক বাবু।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কারণে শিকদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হয়। পাঠদান তদারকি, শৃঙ্খলা রা ও প্রশাসনিক কাজে দুর্বলতার প্রভাব পড়ে শিার্থীদের ওপর। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচালনা কমিটির পরিবর্তে বারবার এডহক কমিটি করার অভিযোগও রয়েছে।

মজলিশপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুর্বল শিার্থী মাধ্যমিকে উঠে আসায় এসএসসির ফল খারাপ হচ্ছে। দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক জানান, টেস্ট পরীায় অকৃতকার্য শিার্থীদেরও বিভিন্ন চাপের কারণে এসএসসি পরীায় সুযোগ দিতে হয়; এতে ফল খারাপ হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের সরানোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত আসেনি।

এ বছর নিকলীতে এসএসসি ও দাখিলের ফল আশানুরূপ হয়নি। কয়েক বছর ধরে এসএসসি, এইচএসসি, দাখিল ও আলিমের ফলও নিম্নমুখী। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের ভালো শিার আশায় কিশোরগঞ্জ শহরে পাঠাচ্ছেন। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে নিয়মিত প্রধান শিক নিয়োগ দিয়ে নিকলীর শিাব্যবস্থাকে ভারমুক্ত করা হোক।