সেব্রেনিসা গণহত্যার তিন দশক পর এখনো নিখোঁজ এক হাজার

Printed Edition

আনাদোলু এজেন্সি

বসনিয়ার সেব্রেনিসায় সার্বীয় বাহিনীর গণহত্যার ৩১ বছর পার হয়েছে। কিন্তু ওই গণহত্যায় ভুক্তভোগী এক হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলমান বসনিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত ওই গণহত্যা আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৯২ সালে যুগস্লাভিয়া ভেঙে পড়ার পর বসনীয়রা স্বাধীন দেশ গঠনের দাবি তুলেছিলেন। অপর দিকে স্থানীয় সার্ব জনগোষ্ঠী সার্বিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ছিল। দুই পক্ষের এ বিরোধ থেকে যুদ্ধ শুরু হয়।

যুদ্ধের শেষপর্যায়ে ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালতে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে সার্ব বাহিনী জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চল সেব্রেনিসা দখল করে। শহরটি দখলের পর বসনীয়দের নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সার্ব বাহিনী কৌশল করে পুরুষ ও ছেলে শিশুদের আলাদা করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে হত্যা করে। ১১ থেকে ২২ জুলাই টানা ১১ দিন এ গণহত্যা চালানো হয়। সার্ব বাহিনীর ওই গণহত্যায় অন্তত আট হাজার ৩৭২ বসনীয় পুরুষ ও ছেলে শিশু নিহত হয়।

মানবতাবিরোধী এ অপরাধ ঢাকতে সার্ব বাহিনী বিভিন্ন স্থানে গণহত্যার শিকার নিহতদের লাশ গণকবরে চাপা দেয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নিহতদের লাশের সন্ধান শুরু করে বসনীয় সরকার। ৩১ বছরে অন্তত ৭৭টি গণকবরসহ ১৫০টি স্থান থেকে গণহত্যায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতি বছর ১১ জুলাই বসনিয়ায় ‘সেব্রেনিসা গণহত্যা’ দিবস পালন করা হয়। এক বছরে শনাক্ত লাশ ‘গণহত্যা দিবস’ স্মরণ উপলক্ষে ১১ জুলাই দাফন করা হয়। এ বছর নতুন ১০ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। সেব্রেনিসার গণহত্যার স্মারক কবরস্থানে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৭৮২ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ২৫০ জনকে তাদের স্বজনদের অনুরোধে নিজেদের এলাকায় দাফন করা হয়েছে। তবে গণহত্যার শিকার বসনীয়দের শনাক্তে বিপুল প্রচেষ্টার পরও এখনো এক হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।