গোলাম কিবরিয়া ও মাহমুদ হাসান পটুয়াখালী
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুড়িয়া ইউনিয়নের হাসেম আলী খান বাজারসংলগ্ন খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর মূল কাঠামো সম্পন্ন হলেও পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ। ফলে ভুড়িয়া, লোহালিয়া ও কুড়িপাইকাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কাঠের সাঁকো ও মই ব্যবহার করে সেতু পার হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গুরুত্বপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের (আইবিআরপি) আওতায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২১ সালের ১ জুন প্রায় চার কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। এক বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এদিকে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চার কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের কোনো কাজ হয়নি। বরং সড়ক প্রশস্ত করার জন্য প্রায় ২৫০ মিটার এলাকায় মাটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। পশ্চিম প্রান্তেও একই অবস্থা। ফলে স্থানীয়রা কাঠের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাজারের ব্যবসায়ী এবং গরুর হাটে আসা মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। অনেককে গবাদিপশু ও মালামাল কাঁধে বহন করে পার হতে দেখা গেছে।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা ও মাছচাষি তমুর রেজা খান বলেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় মাছের খাদ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুর ওপর নির্ভরশীল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, বাজার ও গরুর হাটের হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, প্রতিদিন কাঠের মই বেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষাকালে মই পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় কয়েকবার পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে সে ও তার সহপাঠীরা।
স্থানীয় চা-ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম আকন বলেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া খুঁড়ে রাখা গর্তে পড়ে একাধিক অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্গম এলাকায় বালু সংগ্রহে জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ সম্পন্ন না হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



