দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির ব্যক্তি বা দল নয় শিক্ষার্থীদের অধিকারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি শাবির ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সিলেটের প্রথম আহত। এরপর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম ও সংস্কারকাজে যুক্ত রয়েছেন।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে ও আপনার প্যানেলকে কেন ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা?
দেলোয়ার হোসেন শিশির : ধন্যবাদ। আমরা যখন প্যানেল গঠন করেছি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রায় ২৩টি পদের জন্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। যাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা আছে, নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা আছে এবং যারা টিম হিসেবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন ব্যক্তিদেরই আমরা সম্পাদকীয় পদগুলোতে রেখেছি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুব হাসান অনু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। আবার স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাহিন ভাই জুলাই আন্দোলনের পর শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পাশে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রতিটি সম্পাদকীয় পদে থাকা ব্যক্তিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও দক্ষ।
প্যানেলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভিপি, জিএস ও এজিএস সবাই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই অভিজ্ঞ ও সমন্বিত নেতৃত্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে ইনশা আল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব। দীর্ঘ দিন শাকসু না থাকায় পূর্ববর্তী কোনো উদাহরণ নেই। আমরা চাই একটি দায়িত্বশীল, কার্যকর ও টেকসই ছাত্র সংসদের উদাহরণ তৈরি করতে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। এই লক্ষ্যেই আমরা শিক্ষার্থীদের সমর্থন প্রত্যাশা করি।
নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের প্রধান সমস্যা কী কী?
দেলোয়ার হোসেন শিশির : আমার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আবাসন সঙ্কট। এর পাশাপাশি খাবারের মান ও মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু বিশেষ করে আমাদের বোনেরা বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাইরের এলাকায় শিক্ষার্থীরা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন।
অ্যাকাডেমিক দিক থেকে দেখলে গবেষণা বাজেটের ঘাটতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই ও জার্নাল অ্যাকসেস নেই। পুরো ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট-ব্যবস্থা দুর্বল, অনেকসময় স্বাভাবিক কাজও করা যায় না। ইনোভেশন ও গবেষণায় একসময় সাস্ট যে অবস্থানে ছিল, বর্তমানে সেখানে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া পরিবহন সঙ্কট, বাস ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশগত অবহেলার বিষয়গুলো দীর্ঘ দিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা এসব সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা নিয়মিত শুনছি এবং এগুলো সমাধানের দিকেই আমাদের মনোযোগ।
নয়া দিগন্ত : এসব সমস্যা সমাধানে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
দেলোয়ার হোসেন শিশির : প্রতিটি সমস্যার জন্য আমরা সুস্পষ্ট এক, দুই ও তিন ধাপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বিশেষভাবে খাবার সংক্রান্ত বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। শাকসুর দায়িত্ব পেলে প্রথম ধাপে পুরো ক্যাম্পাসে একটি পুষ্টি-সংক্রান্ত সার্ভে পরিচালনা করা হবে।
এই সার্ভের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪/২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত চাহিদা, খাদ্যাভ্যাস ও রুচি নির্ধারণ করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পেশাদার নিউট্রিশনিস্টদের সহায়তায় স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবারের মেনু তৈরি করা হবে। এই খাবারগুলো ক্যাম্পাসের ফুড জোন ও ফুড পয়েন্টগুলোতে সরবরাহ করা হবে এবং প্রতিটি পয়েন্টে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের খাবার থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দ করতে পারেন। আমাদের মূল স্লোগান হবে ‘দামে কম, মানে ভালো।’ এভাবেই আমরা প্রতিটি সমস্যার জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করেছি, যা ইশতেহার, সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ ও নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
দেলোয়ার হোসেন শিশির : প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুদের কাছে আমার একটাই অনুরোধÑ আপনারা সবাই ভোট দিতে আসুন এবং শাকসু নির্বাচনকে উৎসবমুখর করে তুলুন। শাকসু আন্দোলনের একজন সৈনিক হিসেবে এবং আপনাদের একজন সহযোদ্ধা হিসেবে আমি চাই সবাই মিলে আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরি এবং সমাধানের পথে এগিয়ে যাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য ভোট চাই না; বরং আমি আহ্বান জানাই যারা সবচেয়ে যোগ্য, আসুন আমরা সবাই মিলে তাদেরকেই ভোট দিয়ে আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করি। যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।



