নড়াইলের কালিয়ায় নবগঙ্গার গ্রাসে তীর রক্ষা বাঁধ : আতঙ্কে ৫ শতাধিক পরিবার

Printed Edition
তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত
তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত

শরিফুজ্জামান নড়াইল

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর করালগ্রাসে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষাবাঁধ। নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কয়েক শ’ বছরের প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র মহাজন বাজারসহ আশপাশের পঁঁঁাঁচটি গ্রাম। নদীপাড়ের পঁাঁচ শতাধিক পরিবার এখন বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঙ্গার ভাঙন থেকে কালিয়া উপজেলার প্রাচীন বাণিজ্যিক এলাকা মহাজন বাজার, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাজারো বসতিকে রক্ষার জন্য তিন দশক আগে স্থায়ী তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০০৫ সালে মহাজন উত্তরপাড়া থেকে ঘষিবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে কাজ শেষ হলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা। কিন্তু নির্মাণের এক দশকের মাথায় গত চার বছর ধরে ওই বাঁধে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ভাঙন। ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁধের বিভিন্ন অংশ। এর ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, কোথাও কোথাও বাঁধের পুরো অংশই নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না সাহা, পারুল বালা, চম্পা সাহা প্রমুখ জানান, অশান্ত নবগঙ্গার করালগ্রাসে সব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। সন্তানসন্তুতি ও নাতিপুঁতিদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে অনিশ্চয়তা গ্রাস করছে তাদের। একই অবস্থা নদীপাড়ের হাজারো পরিবারের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনরোধে বারবার আবেদন ও একাধিক মানববন্ধন করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে সামনের বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, ‘স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। বর্তমান ভাঙনের জন্য নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন দায়ী।’ নড়াইলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গার দুই শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের প্রায় ৪২ কিলোমিটার রয়েছে জেলার মধ্যে। এলাকাবাসীর দাবি, আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি মেরামত করতে হবে। অন্যথায় তাদের অস্তিত্বই সঙ্কটে পড়বে।