কিয়েভে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে রুশ ড্রোন হামলা : আহত ১২

ইউক্রেন সহায়তার অর্থ ইউরোপের কাছে ফেরত চান ট্রাম্প

Printed Edition
কিয়েভে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে রুশ ড্রোন হামলা : আহত ১২
কিয়েভে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে রুশ ড্রোন হামলা : আহত ১২

সিএনএন

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর কিয়েভস্থ সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার একটি ড্রোন। গত শুক্রবার দিনের আলোতেই গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি আঘাত হানার বিরল ঘটনা ঘটে, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক সঙ্কটকে প্রকাশ্যে এনেছে।

টানা সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে কিয়েভ লক্ষ্য করে টানা আট দিন ধরে আকাশপথে আক্রমণ চালিয়ে আসছে রুশ বাহিনী। তবে এসবিইউ ভবনে সরাসরি আঘাতের ঘটনা এই প্রথম। হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ভবনটিতে অবস্থিত এসবিইউ প্রধান ওলেকসান্দ্র পোকলাদের দফতরকে নিশানা করেই ড্রোনটি ছোড়া হয়েছিল। তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে পোকলাদ সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। জেলেনস্কি আরো জানান, তিনি এসবিইউ প্রধানকে রুশ বাহিনীকে এর উপযুক্ত ও একই ধরনের পাল্টা জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী সার্বিক সহায়তা করবে।

কিয়েভের কেন্দ্রস্থল ছাড়াও শহরতলির বিভিন্ন কারখানা ও গুদামে হামলা চালিয়েছে মস্কো, যার মধ্যে উপশহরের একটি কোকা-কোলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। গত মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিরতিহীন আক্রমণে কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৩৪ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবিইউর ওপর এই আঘাত প্রমাণ করে কিয়েভ এখন তার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ব্যবহৃত জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে, যা কিয়েভের সাধারণ ভ্রাম্যমাণ ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো অসম্ভব। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ছাড়া এগুলো ধ্বংস করা সম্ভব নয়, যার দু’টিরই তীব্র সঙ্কট রয়েছে ইউক্রেনের। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই ঘটনাকে মস্কোর কূটনীতি বিমুখতার প্রমাণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাবের দাবি জানান। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের আসন্ন মস্কো ও কিয়েভ সফরের মুখে এই আক্রমণকে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে রয়টার্স জানায়, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে দেয়া বিপুল মার্কিন সামরিক সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেই আদায়ের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে নিজস্ব সমরাস্ত্র বাড়াতে মিত্রদের কাছে সাময়িকভাবে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইউক্রেন ও ন্যাটোকে যে শত শত কোটি ডলার বিনামূল্যে দেয়া হয়েছিল, তা ইউরোপেরই পরিশোধ করার কথা ছিল। সঠিক সময়ে চাওয়া হয়নি বলে অর্থ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, বিলম্ব হলেও এখন সেই অর্থ ফেরত চাওয়া হবে। সেই সাথে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের সুরক্ষার স্বার্থে আপাতত অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আবার চালু করা হবে।

পূর্বে চালু হওয়া ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ কাঠামোর আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধে নির্ভুল লক্ষ্যমাত্রার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিপুল পরিমাণে ব্যবহৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। ট্রাম্প মজুদ সঙ্কটের খবর সমালোচনা করলেও বর্তমানে উৎপাদন বাড়িয়ে নিজস্ব ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানান। ইউক্রেন ও ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ আগামী বছরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ দিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বাধা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নতুন হুমকির মধ্যে গতকাল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিগত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সঙ্কটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের একের পর এক হামলার সিদ্ধান্তই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখছে।