মাতামুহুরীতে তীব্র ভাঙন ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

Printed Edition
মাতামুহুরী নদীর তীর ভাঙনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
মাতামুহুরী নদীর তীর ভাঙনের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

রফিক আহমেদ চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পানি কমতে না কমতেই মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও আবাদি জমি। এতে নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চলতি বর্ষায় টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টির পর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নামার সময় প্রবল স্রোতে নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নদীভাঙনে অনেক পরিবার গৃহহারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের মতে, মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী থেকে উজানটিয়া করিয়ারদিয়া ঘাটঘর এলাকায় বাগগুজারা ব্রিজ সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্লক বা জিওব্যাগ ফেলে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বদরখালীর প্রায় ৭০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান, ঘুনিয়া, কাকারা ও কৈয়ারবিল, চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী, বিএমচর ও বদরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ও বেড়িবাঁধের ঢাল ভেঙে বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় নদীভাঙন আরো তীব্র হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। একইভাবে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের পাশাপাশি মরংঘোনা এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চকরিয়া পৌরসভাসহ অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট ও কয়েকশ বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা এবং পূর্ব বড় ভেওলার আনিছপাড়া এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু করেছে।

কক্সবাজার ও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় জানিয়েছে, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব অঞ্চল) শফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।