বিশেষ সংবাদদাতা
আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্যের ছবি, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করতে প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই তথ্য জানিয়ে আরো বলেছেন, বেসামরিক লোকজন যাতে সামরিক স্থাপনার আশপাশে অবস্থান না করেন। তিনি সবাইকে কঠিন সময়ে ধৈর্যধারণ করে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গত চার দিন আগে জানানো হয়, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ছবি বা ভিডিও ধারণ করবেন না এবং সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার বা লাইভ করবেন না। লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন নির্দেশনা জারির পরই কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক, বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশী নাগরিকদের উদ্দেশ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। তার ওই ভিডিও বার্তাটি দূতাবাসের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজেও দেয়া হয়।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে আপনারা শান্ত থাকুন এবং একে অপরকে সহযোগিতা করুন। জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, আপনাদের আমি অনুরোধ করবো, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজ বাসস্থান বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। নিরাপত্তার স্বার্থে অসামরিক ব্যক্তিরা সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকুন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নগদ টাকা, কুয়েতের সিভিল আইডি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কার্ড, পাওয়ার ব্যাংক, মোবাইল ফোন চার্জার, সব সময় নিজের কাছে রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও থেকে যাচাইবিহীন তথ্য অথবা গুজবে কান না দিয়ে কুয়েত সরকারের বিবৃতি ও নির্দেশনা মেনে চলুন।
উল্লেখ্য, ইরানের সাথে ইসরাইল ও যুদ্ধরাষ্ট্রের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনই (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান থেকে পাল্টা ড্রোন হামলা চালানো হয়। আর সেটি গিয়ে পড়ে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে অবস্থান করা অন্যদের সাথে চারজন বাংলাদেশী নাগরিকও গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন। ১ মার্চ তাদের খোঁজ নিতে যান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন। শুধু যে কুয়েতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের সতর্ক করছেন তা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মোট ১৬টি দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেই ঘণ্টায় ঘণ্টায় যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থান প্রবাসীদের জানানো হচ্ছে এবং সতর্কতার সাথে চলাফেরার জন্য বলা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে একশ্রেণীর অতিউৎসাহী প্রবাসী বাংলাদেশী আকাশে মিসাইল কিংবা ড্রোন উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছেন। পরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় অনেক বাংলাদেশী স্থানীয়ভাবে আটক হয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এরপরই সবাইকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
গতকাল মধ্যপ্রাচ্যে কর্মী প্রেরণের সাথে জড়িত কাকরাইল এলাকার আনিসুর রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী নয়া দিগন্তকে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমাদের ব্যবসার উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আমার রাশিয়াগামী ৯ জন যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তাদেরকে চায়না ইস্টার্নের মাধ্যমে পাঠাতে চাইলেও টিকেট পাচ্ছি না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেসব বিদেশগামী কর্মীর ভিসা, টিকিট বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স হয়ে আছে তারা শুধু ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য গন্তব্যে যেতে পারছেন না। আবার বিদেশে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এমন অনেক যাত্রী ফ্লাইট না থাকায় দেশে আসতে পারছে না। তবে আশার খবর হচ্ছে যাদের ভিসা হওয়ার পরও ফ্লাইট জটিলতার কারণে বিদেশযাত্রা আটকে রয়েছে তাদের জন্য মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার ভিজিট ভিসা, ওয়ার্কভিসাসহ অন্যান্য ভিসার মেয়াদ এক মাস থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। যদিও সৌদি আরবের একাধিক গন্তব্যে যুদ্ধ শুরুর মধ্যেও কিছু ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।


