ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিপিএল ফাইনালে সন্ধ্যা ছয়টায় মুখোমুখি হয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে চড়ে উড়ে এলো এবারের বিপিএলের ট্রফি। ট্রফি নিয়ে মাঠে অবতরণ করেন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন। ট্রফি উন্মোচন করেন দুই ফাইনালিস্ট রাজশাহী ও চট্টগ্রামের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শেখ মাহেদী হাসান। এরপর পিকআপে করে ট্রফিটি মাঠে ঘুরিয়ে দর্শকদের দেখানো হয়।
বিপিএল শুরুর আগেই ট্রফি এনেছিল গভর্নিং কাউন্সিল। কিন্তু সেই ট্রফি পছন্দ না হওয়ায় নতুন করে অর্ডার দেয়া হয়। বিসিবি থেকে জানানো হয়েছে, বিপিএলের নতুন ট্রফি দুবাই থেকে বানিয়ে আনা হয়েছে। যার মূল্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩০ লাখ টাকা।
সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল বিপিএলের এবারের পর্ব। ট্রফি না থাকায় সেদিন ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে বিপিএল উদ্বোধন করেছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। চমক দিতেই মূলত ফাইনালের আগের দিন ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনের আয়োজন করেনি টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। অবশেষে বিপিএলের নতুন নকশার ট্রফির দেখা পেলেন দর্শকেরা। ফাইনালে বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিল বিসিবি। ট্রফি উন্মোচন পর্ব শেষে পারফর্ম করেন দেশের জনপ্রিয় মডেল তানজিন তিশা। উদ্বোধনী দিনেও সিলেটে স্টেজ পারফর্ম করেছিলেন তিনি।
শেরোংলা স্টেডিয়ামের এক নম্বর ফটকের সামনের রাস্তায় বিকেল তিনটা থেকেই ভিড় শুরু হয়। একসময় জনসমুদ্রে রুপ নেয়। অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে ভেতরে প্রবেশের অপেক্ষা করতে থাকেন দর্শকরা। আর দলীয় শ্লোগান তো ছিলই। মেসুমী ব্যাবসায়ীদের চোখে মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। এক বেকারি ব্যবসায়ী এক হাজার বারগার নিয়ে দুই প্রবেশমুখে বসেছেন। ৬ ঘণ্টার জন্য একজন লোকও রেখেছেন এক হাজার টাকা দিয়ে। জার্সি ব্যাবসায়ীর আফসোস আরো কিছু জার্সি কেন বানায়নি। বিপিএল আজ শেষ বিধায় পতাকা, হেডবেন্ড কমদামেই ছেড়ে দিয়েছেন খুদে ব্যাবসায়ীরা।
বিপিএলে বিশ^কাপ প্রসঙ্গ
এমন আনন্দের পাশাপাশি জমে আছে শঙ্কার কালো মেঘ, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা হবে তো! বিপিএল ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকদের কেউ কেউ স্বাগত জানালেন সরকার ও বিসিবির অনড় অবস্থানকে, কেউ তুলে ধরলেন দেশের ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যতের শঙ্কার কথা। অনেকের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলা না হলে খারাপ লাগার কথা বলেন কেউ কেউ, কেউ স্বাগত জানালেন সরকার ও বিসিবির অনড় অবস্থানকে। আবার কেউ তুলে ধরেন দেশের ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যতের দুর্ভাবনার কথা।
কয়েকজন দর্শক জানালেন, ‘বিপিএলে যদি এত দর্শক হয়, তাহলে বুঝেন ক্রিকেটের প্রতি কেমন গভীর ভালোবাসা। কলকাতা গিয়ে সব ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা ছিল। শ্রীলঙ্কায় হলেও গিয়ে দেখতাম। যখন শুনলাম হবেই না, তখন মনের মাঝেই কষ্ট পুষে রাখতে হবে। বিসিবির জায়গায় ঠিক আছে, আমাদের একটা সম্মান আছে। এটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। ভারত চাইলেই শ্রীলঙ্কায় খেলা দিতে পারত। তাদের হাতেই তো সবকিছু, ভারত যদি মোড়লের দেশ না হতো, তাহলে আইসিসি করত।
সারমর্ম করে দিলেন কয়েকজন ছাত্র
নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্র এসেছিলেন ফাইনাল দেখতে। তারা দিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাদের কথা, ‘গাজীপুরে এক হিন্দু ভাইকে মবহত্যাকে ইস্যু করে আইপিএল থেকে সহজ সরল মোস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে। এখন আপনি বলুন রাজনীতি প্রথমে কে ঢুকালো। ক্রিকেটের যে ক্রেজ সেটি বিশ^কাপে খেললেও থাকবে, না খেললেও থাকবে। আজকের (গতকাল) পরিস্থিতি দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে কালক্ষেপন করেছে ভারত তথা আইসিসি।’



