তাপমাত্রার উঠানামা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাপমাত্রার উঠা-নামা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে সারা দেশেই চলছে সর্দি-কাশি ও জ্বর। ঘরে ঘরেই চলছে সর্দি-কাশি। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুগছে। ওষুধের দোকানে বেড়েছে প্যারাসিট্যামল ও অ্যান্টিহিস্টামিনের বিক্রি। একই সাথে কাশির ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপের বিক্রিও বেড়েছে অনেক। ঢাকা শহরের মাঝারি মানের প্রতিটি ওষুধের দোকানে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকার প্যারাসিট্যামল ও ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে ফার্মাসিস্টরা জানিয়েছেন। ঠাণ্ডাজনিত জ্বর হলে প্যারাসিট্যামল খেতে হয়, এটা সবাই জানে। তবে অ্যান্টিহিস্টামিন ফার্মেসির দোকানদারের কাছ থেকে পাচ্ছে মানুষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভাইরাসের কোনো ওষুধ নেই, কিছু কিছু ভাইরাল জ্বর কোনো ওষুধ না খেলেও ( যেমন প্যারাসিট্যামল, অ্যান্টিহিস্টামিন ইত্যাদি) এমনিতেই তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে আরোগ্য হয়। আবার কিছু কিছু ভাইরাল জ্বর ভোগায় অনেক দিন, সাথে হাঁচি ও কাশি থাকে। তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে অথবা ঋতু পরিবর্তন হলেই যাদের এমন হয় তাদের প্রতি ভাইরোলজিস্টরা চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করে ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়া পরামর্শ দিয়েছেন।

রোগতত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা: মাহমুদুর রহমান সিজনাল সর্দি-কাশি ও জ্বর সম্বন্ধে বলেন, এই সময়ে মানে এপ্রিল মাস থেকে সিজনাল ভাইরাস অর্থাৎ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অ্যাক্টিভ হয়ে থাকে। আমরা জাতীয় সার্ভেইল্যান্সে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আলামত পাচ্ছি। এই ভাইরাসটি এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অ্যাক্টিভ থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় আমাদের দেশ বৃষ্টিপ্রবণ। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায় আবার বৃষ্টি না থাকলে সর্বোচ্চ মাত্রা উঠে যায়। অধ্যাপক ডা: মাহমুদুর রহমান বলেন, তাপমাত্রা উঠানামা করায় যাদের সর্দি-কাশির সমস্যা হয় তাদের উচিৎ ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন নিয়ে নেয়া।

সিজনাল ঠাণ্ডা-কাশির কারণে যে সর্দি জ্বর, কাশি ও হাঁচি হচ্ছে এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে এ সময় ঠাণ্ডা থেকে জ্বর, সর্দি , হাঁচি ও কাশি হচ্ছে। ভাইরাসের কারণেই এমনটা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্যারাসিট্যামল ও অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে সুস্থ হয়ে যায় মানুষ কিছু জটিলতা ছাড়া। সময় মতো চিকিৎসকের কাছে আসলে অল্প চিকিৎসাতেই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মাঝে মাঝে শ্বাসনালীর ইনফেকশনের (ইউটিআই) কারণেও এমনটা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেয়া ঠিক না, নিজে নিজেও ওষুধ সেবন করা ঠিক না।

অধ্যাপক সাজেদুর রহমান বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগে সাধারণত রোগী ভর্তি করা হয় না, যদি ইউটিআইতে জটিলতা না থাকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের রোগ কমই ভর্তি আছে, শুধুমাত্র ইউটিআই’র রোগীদেরই ভর্তি করা হয় জটিলতা থাকলে।

চিকিৎসকরা বলেন, ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশি ও হাঁচি হলে টক জাতীয় ও ভিটাসিন সি জাতীয় ফল খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। একই সাথে লেবু, আদা, লবঙ্গ, এলাচি, তেজপাতা ও দারুচিনি দিয়ে চা তৈরি করে গরম গরম পান করলেও বেশ উপকার পাওয়া যায়।