রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার ফুটপাথ থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত এখন হকারদের দখলে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সরেজমিন দেখা গেছে, গোলাকান্দাইল মফিজ প্লাজা থেকে শুরু করে ভাই ভাই মার্কেট, নুর ম্যানশন, তাঁতবাজার, গাউছিয়া মার্কেট ও রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশের চার লেনের পুরো অংশই ভাসমান দোকানে ভরা। বাস কাউন্টার, রেন্ট-এ-কার, মাছ-গোশত, কাঁচাবাজার, ফলমূল, পোশাক ও ফাস্টফুডের এসব দোকানের কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ফুটপাথে ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে হকারদের। তাঁতবাজারের হকার রমজান আলী জানান, ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করলেও শান্তি নেই। প্রতিদিন ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয় এবং নতুন দোকান বসাতে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা এককালীন অগ্রিম দিতে হয়। জানা যায়, ভুলতা ইন্টারসেকশনটি পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভাসমান দোকান বসে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা হারে মাসে ৯০ লাখ এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই অতীতে দেলোয়ার ও হানযালা গংদের হাতে খুন হন রাকিব হাসান এবং কাঁচাবাজারের আধিপত্য নিয়ে প্রাণ হারান জাকির হোসেন।
বিগত ১৭ বছরে এই এলাকায় ১২৩ বার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোটি কোটি টাকার ফ্লাইওভারের নিচে মহাসড়কের এক কিলোমিটার এলাকা দখলে থাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যানবাহনগুলোর সময় লাগে এক ঘণ্টারও বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানগুলো শুধুই লোকদেখানো নাটক। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে সড়ক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয় জানান, দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত আছে এবং চাঁদাবাজির প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



