নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বখ্যাত পোলিশ পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি এসএ বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং আরো বাড়ানোর গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার উত্তরার বিজিএমইএ কার্যালয়ে ব্র্যান্ডটির শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) নেতৃত্বের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।
বৈঠকে এলপিপি এসএ জানায়, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম প্রধান সোর্সিং হাব এবং ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় জোয়ানা সিকোরস্কা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সোর্সিং বেস। আমরা এখানে আমাদের ব্যবসায়িক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে চাই এবং সরবরাহ চেইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য বিজিএমইএর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করব।
বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে শক্তিশালী করার বিষয়টি। উভয়পক্ষই আলোচনা করে যে এসএমই কারখানাগুলোকে আরএসসি (আরএসসি) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করলে তারা সরাসরি রফতানির সুযোগ পাবে, যা শিল্পের মোট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
বৈঠকে জানানো হয়, এলপিপি এসএ বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক সংগ্রহ করে এবং প্রতিনিয়ত এ পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশ তাদের সবচেয়ে বড় সোর্সিং হাব হওয়ায় দেশটি এখন প্রতিষ্ঠানটির ‘টপ প্রেফারেন্স লিস্ট’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে।
বিশ্বব্যাপী দ্রুত সম্প্রসারণশীল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এলপিপি এসএ অন্যতম। তারা রিজার্ভড, ক্রপ, হাউজ, মোহিতোসহ একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মালিক। কোম্পানিটি ইউরোপে পোশাক বাজারে উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধরে রেখেছে এবং বাংলাদেশ তাদের ব্যবসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এলপিপি এসএ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্রেতা। তাদের সোর্সিং বাড়লে বাংলাদেশের শিল্প ও কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা সর্বোচ্চ কমপ্লায়েন্স ও মান বজায় রেখে তাদের চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জানা যায়, পোশাক সোর্সিংয়ে স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য। এজন্য তারা সরবরাহকারীদের উৎপাদন সক্ষমতা, কমপ্লায়েন্স বজায় রাখা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো উন্নতি করার ওপর জোর দেয়।
বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ জানান, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলপিপি এসএ’র মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো যদি সোর্সিং বৃদ্ধি করে, তাহলে দেশের বৈদেশিক আয়, কর্মসংস্থান এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি সবক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



