- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা কোন আইনি স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় সেখানে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান। একই দিনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য ও অপপ্রচারের মাধ্যমে উসকানি দেয়ার অভিযোগে তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে ফেরানোর প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সে দেশের আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে মর্মে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা কী স্ট্যাটাসে রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। ফলে কেবল সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
ভারতের মেঘালয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, সালাহউদ্দিনকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে শিলংয়ে মামলায় আইনি লড়াই শেষে তিনি খালাস পেয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন, তাই দু’টির মধ্যে কোনো আইনি তুলনা চলে না।
এ দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিচারিক বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের নির্দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের অপরাধের পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
২৪ আগস্ট ৩ সাংবাদিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ
অন্য এক আদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একই চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আগামী ২৪ আগস্ট হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল জেল কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ জারি করেন। সেদিন তাদের এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হবে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক প্ররোচনামূলক বক্তব্য ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। পরে ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’ (বিভ্রান্তিকর তথ্য) তৈরির পেছনে তারা সক্রিয় ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পৃথকভাবে এই বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন।



