জুলাই সনদ ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রোডম্যাপ দাবি

সরকারের ৬ মাস নিয়ে সিআইপিজির আলোচনা

Printed Edition
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স আয়োজিত সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স আয়োজিত সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • অর্থনীতির ইতিবাচক সূচকেও ফেরেনি স্বস্তি
  • জবাবদিহিতার তাগিদ বিশিষ্টজনদের

সরকারের বিগত ছয় মাসের মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের মতো কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কাক্সিক্ষত স্বস্তি ফেরেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর পদক্ষেপের ওপর তারা জোর দেন। একই সাথে জুলাই সনদ ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স’ (সিআইপিজি) আয়োজিত ‘সরকারের ৬ মাস : প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নমুক্ত যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি গভীরভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে। ছয় মাস নীতিনির্ধারণের গতিপথ বোঝার জন্য যথেষ্ট উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়ার কড়া সমালোচনা করেন।

বিশেষ অতিথি ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতি ও ব্যাংক থেকে সরকারি ঋণ গ্রহণ অব্যাহত থাকলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সঙ্কুুচিত হবে। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজারের বিশৃঙ্খলা নিয়েও ক্ষোভ জানান তিনি। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত নতুন আইনি কাঠামোর অস্পষ্ট বিধানের সমালোচনা করেন এবং অভিযুক্তদের দায়মুক্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) মো: আবদুল বাতেন বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরে স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দাবি জানান। এর আগে মূল প্রবন্ধে সিএসপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো: মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, সামষ্টিক অর্থনীতি কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও মূলস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

আলোচনা সভা থেকে সিআইপিজি সরকারের আগামী দিনের জন্য পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে-মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ। মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ কঠোর ব্যবস্থা। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার। যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। জুলাই সনদ ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশ। সিআইপিজি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: মোজাম্মেল হকের স্বাগতিক বক্তব্য এবং নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলমের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।