নাঙ্গলকোটে ২০ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে লাখো মানুষষ সাইফুল ইসলাম নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)

Printed Edition

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাত বছর ধরে সড়কগুলোর সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন দেখা যায়, মাহিনী-জোড়পুকুরিয়া, নাঙ্গলকোট-শ্রীফলিয়া-বাঙ্গড্ডা, বাঙ্গড্ডা-গান্দাছি, শান্তিরবাজার-পিপড্ডা, আলিয়ারা-বিরুলী, হাসানপুর-তালতলা-বাইয়ারা, নাঙ্গলকোট পশু হাসপাতাল-লুদুয়া, দৌলখাঁড়-বিরাহিমপুরসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পুকুর ও জলাশয়ের পাশে সড়ক ভেঙে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে বাঙ্গড্ডা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে গান্দাছি মধ্যমপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা কঠিন। সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছে।

বিধ্বস্ত এসব সড়ক দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি হচ্ছে।

প্রায়ই দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। বাঙ্গড্ডা-গান্দাছি সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাফেরা করেন স্বপন দত্ত। তিনি বলেন, সড়কের অসংখ্য গর্তে মূল অবকাঠামোই প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। জলাশয়ের পাশে ভাঙনের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মাহিনী-জোড়পুকুরিয়া সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ দৌলখাঁড়-বিরাহিমপুর সড়কে চলাফেরা করা মিজান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

এ দিকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ক্ষতিগ্রস্ত কিছু সড়কে ইটের সুরকি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সম্প্রতি আদ্রা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম হোসেন গোলাপ নিজস্ব অর্থায়নে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সুরকি ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, উপজেলার ৭ থেকে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়কও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।