ভারতের তুলনায় ৪ গুণ দামে ক্রয়

সৌর প্রকল্পের ২৪৭ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় চারগুণ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কিনে সরকার। ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে উৎপাদিত (সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ) প্রতি ইউনিট ০৩ মার্কিন সেন্ট। তবে বাংলাদেশে গড়ে ১২ মার্কিন সেন্টের বেশি। অন্যদিকে, এ অঞ্চলে পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ০৩২ সেন্ট, চীনে ০৪৫ সেন্ট। অথচ তা বাংলাদেশে ১২ সেন্ট। এছাড়া সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি ক্রয়েও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি আইপিপির সৌর প্রকল্পের (৪ প্রকল্প) জমি ক্রয়ে ২৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। এ টাকা আইপিপির কর্মকর্তাদের একাংশ, স্থানীয় ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিস, সংসদ-সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) এ তথ্য প্রকাশ করে। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা জরিপ তুলে ধরা হয় এদিন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষক নেওয়াজুল মওলা ও আশনা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ২৮ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াটের উৎপাদনক্ষমতা আছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করার ক্ষমতা ১ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১৭টি প্রকল্পে গ্রিডে যায় ১ হাজার ২২১ মেগাওয়াট। বাকিগুলো গ্রিডের বাইরে সরবরাহ দেওয়া হয়। এ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্পের মধ্যে সরকারি ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট ০৬৫ সেন্ট, ২০০ মেগাওয়াট প্রকল্পে ১৫ সেন্ট, ৩০ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ১৬ সেন্ট, ১০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ১৩ সেন্ট, ৬৮ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ১০ সেন্ট, ৩৫ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ১৩ সেন্ট এবং বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১২ মার্কিন সেন্ট দিয়ে কিনে পিডিবি। গবেষক আশনা ইসলাম বলেন, দুর্নীতি বিদ্যুৎ খাতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পিছিয়ে দেয়। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে গড়ে ৮ কোটি টাকা। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৬টি প্রকল্পে গড়ে প্রতি মেগাওয়াটে বেশি ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই ৬টি প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

টিআইবি জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। বিশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন নীতিমালায় ২০৫০ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। সেটাও নীতিমালা অগোছাল। যেমন : নবায়যোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০২৩-এ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ, আবার ইনিটগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যানে (আইইপিএমপি) ২০৩০ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার জলবায়ুসমৃদ্ধ পরিকল্পনায় (২০২২) ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ, ২০৪১ সালে ৪০ এবং ২০৫০ সালে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশে এখন যে পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, এর মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।