২ এপ্রিল রূপকথার কালজয়ী লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের জন্মদিন। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক শিশু গ্রন্থ দিবস’ হিসেবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃত এ দিবসটি মূলত ‘ইন্টারন্যাশনাল বোর্ড অন বুকস ফর ইয়ং পিপল্স’ (আইবিবিওয়াই)-এর এক অনন্য উদ্যোগ। একটি উন্নত ও মানবিক বিশ্ব গড়ার জন্য শিশুদের হাতে ভালো বই তুলে দেয়ার চেয়ে বড় বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না- এই দর্শনই দিবসটির ভিত্তি।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত আইবিবিওয়াই বর্তমানে ৬৮টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিশুদের জন্য মানসম্মত বই লেখা, মননশীল অলঙ্করণ এবং প্রকাশনার মানোন্নয়নে সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে লেখক, চিত্রশিল্পী ও প্রকাশকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। শিশুসাহিত্যের জন্য ‘হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, ত্রৈমাসিক প্রকাশনা এবং পাঠ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সেমিনার ও কর্মশালা পরিচালনা করে সংস্থাটি শিশুদের বৌদ্ধিক বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতি বছর এই দিবস উদযাপনে একটি দেশ ‘মুখ্য দেশ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বিগত বছরগুলোতে অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস ও ভারতের মতো দেশগুলো এই দিবসের মাধ্যমে তাদের শিশুসাহিত্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে। এটি কেবল একটি দিবস পালন নয়, বরং একটি প্রজন্মের মগজে সৃজনশীলতার বীজ বুনে দেয়ার বৈশ্বিক অঙ্গীকার।
কেন এই দিবসটি জরুরি?
একটি শিশুর কল্পনাশক্তি বিকাশে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই; অথচ আজকের ডিজিটাল যুগে শিশুরা যখন স্মার্টফোন বা স্ক্রিন-নির্ভর বিনোদনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, তখন বইয়ের পাতার ঘ্রাণ তাদের কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিশু গ্রন্থ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য যন্ত্র নয়, বরং মানসম্মত গল্পের বই এবং রঙিন চিত্রের সংমিশ্রণ বেশি প্রয়োজন। তবে আমাদের দেশে দিবসটি এখনো অবহেলিত। সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গণমাধ্যম- কোথাও এই দিবসটির তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না।
শিশু একাডেমি ও গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের উদ্যোগে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দিনটি পালিত হতে পারে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও সৃজনশীল বই পড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা উচিত।
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈশ্বিক পরিবারের অংশ হয়ে উঠতে এবং দেশীয় শিশুসাহিত্যিকদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।



