ইসলামপন্থীরা অন্যের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চায় না : মাওলানা মামুনুল হক

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ভিক্ষার নয়, অংশীদারত্ব ও মালিকানার রাজনীতি করতে চায় ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। ‘অনেকেই মনে করেছিলেন, আমরা হয়তো বড় বড় রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, সংসদ সদস্যপদ বা রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তি নিশ্চিত করব। আমরা সে পথে না হাঁটায় অনেকে মর্মাহত ও বিস্মিত হয়েছেন। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা অন্যের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চায় না।’ গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নগরীর কৃঞ্চচূড়া চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক আরো বলেন, যদি কেউ সম-অধিকারের ভিত্তিতে আমাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে, রাজনৈতিক সমঝোতা করতে চায়, তাহলে স্বাগত জানাই। ভিক্ষার থলি ধরে কেউ আমাদের দিকে হাত বাড়ালে ধিক্কার জানাই, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।’ তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব না দিয়ে একদলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে একটি দল।

কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছে। নতুন ফ্যাসিবাদের হাতে এই মাটি ইজারা দেয়া হবে না।

আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামিক বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ হবে জুলাই সনদভিত্তিক বাংলাদেশ।

মাওলানা মামুনুল বলেন, মানুষ যেমন কবর থেকে ফেরে না, শেখ হাসিনাও কোনো দিন বাংলার রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলকে ধ্বংস করে শেখ হাসিনা তার সাওয়াল-জবাব (হিসাব-নিকাশ) নিয়ে ছেলেমেয়ে, আপনজন, আত্মীয়স্বজন বগলদাবা করে ১৬ লাগেজে যা ভর্তি করার- তা নিয়ে ‘দাদার দেশে’ গেছেন।

শেখ হাসিনার পরিণাম থেকে শিক্ষা নেয়ার তাগিদ জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি কেউ ফ্যাসিবাদের মতো চলতে চেষ্টা করে, তাঁর পরিণাম শেখ হাসিনার থেকেও ভয়াবহ হবে ইনশা আল্লাহ।

সবাইকে হুঁশিয়ার করি, বাংলার মাটিতে ফ্যাসিবাদী সাজতে যাইয়েন না। মানুষ যদি একবার ক্ষিপ্ত হয়, তাহলে খুব খতরনাক হয়ে যায়। ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন যে কেউ দেখতে পারেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদী হওয়ার চিন্তাও করবেন না, স্বপ্নও দেখবেন না, খবরদার!’

মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রতিটি রাজনৈতিক পক্ষকে আহ্বান জানাই, যারা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে নিগৃহীত হয়েছেন, জুলুমের শিকার হয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের অংশীজন, আসুন এক টেবিলে বসি; অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে পরিচালিত করি। অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে যদি শুধু একদলীয় কায়দায় আবার বাকশালী ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলে, তাহলে আবার জুলাই হবে, শাপলা চত্বর হবে।’

গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি আবদুস সালাম। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের মাওলানা আব্দুল ক, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে দলটির প্রার্থী মুফতি কাজী মোশতাক আহমাদ ফারুকী, দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল আজিজ, কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী, কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক ফজলুর রহমান প্রমুখ। এর আগে জেলার নান্দাইল ও গৌরীপুরের নির্বাচনী গণসমাবেশে বক্তব্য দেন মামুনুল হক।