সূচকের বড় উন্নতির পরদিনই সংশোধন পুঁজিবাজারে

ইএসএস সিস্টেম সবার জন্য খুলে দিলো ডিএসই

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সূচকের বড় উন্নতির পরই ঘটছে সংশোধন। সম্প্রতি পুঁজিবাজারের আচরণ এ সূত্রেই যেন বাঁধা। মঙ্গলবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটার পর গতকাল বুধবার যথারীতি সংশোধন ঘটল। উভয় পুঁজিবাজারেই লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডের বেশির ভাগই দর হারায়। তবে এর মধ্যে ঢাকার লেনদেনের

উন্নতি ধরে রাখতে পারলেও চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে অবনতি ঘটেছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুতে সূচকের যে উন্নতি ঘটে তাতে বেশির ভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডে মূল্যস্তর বেড়ে যায়। এতে মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয় বিনিয়োগকারীদের জন্য। এর ফলে লেনদেনের শেষ দিকে এসে বিক্রয়চাপ বৃদ্ধি পায়, যারই পরিণতি সূচকের অবনতি। তারা মনে করেন, নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি আস্থায় আনতে পারেননি বাজারের ওপর। তাই সুযোগ পেলেই মুনাফা তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন সবাই। তবে লেনদেনের উন্নতিই প্রমাণ করে বিনিয়োগকারীরা বাজারের সাথেই রয়েছেন।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৯০০ দশমিক ২৬ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে স্থির হয় ৫ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে। এই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭৬ ও ৯ দশমিক ৫১ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ৩৩ দশমিক ০২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ১৫ হাজার ৭৩৮ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে নেমে আসে ১৫ হাজার ৭০৬ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯২ ও ২৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট।

গতকাল ঢাকা স্টকে লেনদেনের শুরুতেই প্রধান সূচকটির ৩৫ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। সূচকের এ অবস্থান থেকে বিক্রয়চাপ সক্রিয় হলে সকাল সাড়ে ১০টায় সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৯২২ পয়েন্টে। এখান থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। বেলা ১১টায় সূচকটি আবার ৫ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সূচকের এ অবস্থান থেকে আবারো বিক্রয়চাপ সক্রিয় হলে নিম্নমুখী হয় সূচকটি। দিনের বাকি সময় বাজার আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এ পর্যায়ে লেনদেনের গতি বাড়লেও সূচকের পতন আর থামেনি। লেনদেনের শেষদিকে এসে সব ক’টি সূচকের অবনতি ঘটে।

সূচকের অবনতি সত্ত্বেও গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের উন্নতি ঘটে। বাজারটি এদিন এক হাজার ৩৪২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৮২ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এখানে ৩৭ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার সিএসইর লেনদেন ছিল ৬৪ কোটি টাকা।

এ দিকে শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমে (ইএসএস) নতুন ‘প্রাইভেট ইনভেস্টর (পিআই)’ ক্যাটাগরি চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে এখন থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বেসরকারিভাবে ইস্যু করা বন্ড, ওপেন-অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন ইকুইটিতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।

এর আগে ডিএসইর ইএসএস প্ল্যাটফর্মে কেবল এলিজিবল ইনভেস্টর ও কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। নতুন ‘প্রাইভেট ইনভেস্টর’ ক্যাটাগরি চালুর মাধ্যমে ব্যক্তিগত খাতের সাধারণ বিনিয়োগকারী, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন তহবিলও এখন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাথমিক বিনিয়োগে অংশ নিতে পারবেন। রোববার অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় এ তথ্য জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। কর্মশালায় মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ডিএসই কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই ক্যাটাগরিতে যেকোনো ব্যক্তি বা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করতে পারবেন। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং একটি বৈধ ব্যাংক হিসাব থাকলেই নিবন্ধন করা যাবে। অন্য দিকে প্রতিষ্ঠান বা তহবিলের জন্য নিবন্ধন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘প্রাইভেট ইনভেস্টর’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধনের জন্য কোনো ধরনের ফি রাখা হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ বিনা নিবন্ধন ফিতেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। কর্মশালায় ইএসএস প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন ও সাবস্ক্রিপশনের ধাপ, প্রয়োজনীয় তথ্য, ডকুমেন্টেশন এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়।

ডিএসইর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত শেয়ার বিনিয়োগের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হবে। একই সাথে দেশের শেয়ারবাজারে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও ডিজিটাল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো বহুমুখী আর্থিক পণ্য বাজারে আনার পথও সুগম হবে।