১৩ বছর ধরে গুম ফটিকছড়ির বিএনপি নেতা সিরাজ চেয়ারম্যান

Printed Edition

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির নেতা ও লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম শহিদুল আলম সিরাজ গুমের ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি জীবিত না মৃত এ তথ্যও অজানা তার পরিবারের কাছে।

২০১২ সালের ৬ মার্চ বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নিখোঁজ হন সিরাজ চেয়ারম্যান। এ ঘটনার পর তার স্ত্রী সুলতানা পারভিন খুলশী ও পাঁচলাইশ থানায় দু’টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরেও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে কষ্টের মধ্য দিয়ে একযুগের বেশি সময় পার করছেন সুলতানা পারভিন ও তার দুই ছেলে অনন ও আবির।

সুলতানা পারভিন বলেন, আমার স্বামী ফটিকছড়ি উপজেলায় একজন জনদরদি ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অল্প বয়সে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ২০১২ সালের ৬ মার্চ রাতে তিনি ঢাকা থেকে ফোন করে জানান, চট্টগ্রামের উদ্দেশে ফিরছেন। এটাই ছিল আমাদের শেষ কথোপকথন। পরদিন সকালে ফোন করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। দুই ছেলেকে নিয়ে এখনো তাকে খুঁজে ফিরছি। জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি মারা গেছেন। যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে অন্তত লাশ হস্তান্তর করা হোক অথবা তার সন্ধান জানানো হোক।

উপজেলা বিএনপির সদস্য ও লেলাং ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের গুমের শিকারদের মধ্যে সিরাজ চেয়ারম্যান অন্যতম। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। ১৯৮৮ সালে অল্প বয়সেই ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পার হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার অবস্থান খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সত্যিই হতাশাজনক।’